ভুল ব্লাড গ্রুপ শরীরে প্রবেশ করলে ঠিক কী ঘটে! জানলে চমকে উঠবেন আপনিও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রক্তদান বা রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। চিকিৎসকদের মতে, কোনো ব্যক্তির শরীরে যদি ভুল গ্রুপের রক্ত প্রবেশ করানো হয়, তবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ওই রক্তকে ‘বহিরাগত শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই মারাত্মক প্রতিক্রিয়াকে ‘অ্যাকিউট হিমোলাইটিক ট্রান্সফিউশন রিঅ্যাকশন’ (AHTR) বলা হয়। এর ফলে শরীর বাইরের রক্তকে ধ্বংস করতে অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু করে, যা রক্তকণিকাকে ভেঙে ফেলে এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে বিকল করে দেয়।
শরীরে দেখা দেওয়া প্রাথমিক উপসর্গ
ভুল রক্ত শরীরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগী অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ তীব্র জ্বর আসা, বুক বা পিঠে অসহ্য যন্ত্রণা এবং শ্বাসকষ্ট। এছাড়া রক্তচাপ দ্রুত কমে যাওয়া, শরীর ফুলে যাওয়া কিংবা প্রস্রাবের রঙ গাঢ় লাল হয়ে যাওয়া অত্যন্ত আশঙ্কাজনক লক্ষণ। সময়মতো এই উপসর্গগুলো শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু না করলে কিডনি বিকল হওয়া বা শক লেগে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
অসাবধানতার কারণ ও প্রতিকার
সাধারণত ব্লাড ব্যাংক বা হাসপাতালে রক্ত দেওয়ার আগে ‘ব্লড টাইপিং’ ও ‘ক্রস-ম্যাচিং’ করা বাধ্যতামূলক। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো, রক্ত সঞ্চালনের নথিপত্রে ভুল লেবেলিং কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীদের সামান্যতম গাফিলতি এই প্রাণঘাতী ভুলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ঝুঁকি এড়াতে রক্ত দেওয়ার আগে বারবার গ্রুপের সঠিকতা যাচাই করা এবং রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে সচেতন থাকা একান্ত প্রয়োজন। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় কঠোর নিয়ম মানা হলেও মানুষের সচেতনতাই পারে এমন দুর্ঘটনা রুখতে।
এক ঝলকে
- ভুল গ্রুপের রক্ত শরীরে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সেটিকে আক্রমণ করে নষ্ট করে দেয়।
- এর ফলে কিডনি বিকল হওয়া, তীব্র শ্বাসকষ্ট ও রক্তচাপ কমে গিয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
- রক্ত দেওয়ার আগে ব্লাড টাইপিং ও ক্রস-ম্যাচিং করা জীবন রক্ষায় অপরিহার্য।
- হাসপাতালে বা জরুরি অবস্থায় লেবেলিং ও গ্রুপের সঠিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।
