‘ভেঙে পড়েছে শাসনব্যবস্থা’—মুনির-ঘনিষ্ঠ নাকভির বিস্ফোরক মন্তব্যে পাকিস্তানে তাসের ঘরের মতো কাঁপছে গণতন্ত্র! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বর্ষার প্রস্তুতি—সবত্রই তাঁর উপস্থিতি। থল, নব ও বিমান বাহিনীর ওপর পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশটির কৌশলগত পারমাণবিক কমান্ডও এখন তাঁরই তত্ত্বাবধানে। তিনি আর কেউ নন, পাকিস্তান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির—যাঁকে বলা হচ্ছে আজকের পাকিস্তানের ‘প্রকৃত শাসক’।
বর্তমানে পাকিস্তানে সেনাসমর্থিত ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র শাসনব্যবস্থা চালু থাকলেও, সকল ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি এখন মুনিরের হাতেই। ক্ষমতার এই একক কেন্দ্রীভূতকরণ দেখে ওয়াকিফহাল মহল প্রশ্ন তুলছে—তিনি যখন সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করছেন, তবে কি সরাসরি দেশের মসনদ দখল করা এখন সময়ের অপেক্ষা? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সাম্প্রতিক বিস্ফোরক মন্তব্য সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিয়েছে।
মুনির-ঘনিষ্ঠ নাকভির বিস্ফোরক মন্তব্য: আসিম মুনিরের অত্যন্ত আস্থাভাজন তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং দেশ আর স্বাভাবিক নিয়মে চলতে পারে না। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও মুনিরের কৃপায় প্রভাবশালী এই পদে বসা নাকভির মুখে এমন কথা শুনে বিশ্লেষকদের ধারণা—এটি নিছক কোনো ব্যক্তিগত মতামত নয়, বরং সেনাপ্রধানের মনভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
পুতুল সরকার ও চরম সংকট: গত এক বছরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অসামরিক সরকারকে অত্যন্ত ‘দাঁতভাঙা’ বা ক্ষমতাহীন মনে হয়েছে। কূটনীতি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনের শীর্ষ সিদ্ধান্তগুলো ইসলামাবাদ থেকে নয়, বরং পরিচালিত হচ্ছে রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদর দপ্তর থেকে। দেশটিতে যখন অর্থনৈতিক ধস, বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় তীব্র বিদ্রোহ এবং পিওকে-তে (POK) জনরোষ চরম আকার ধারণ করেছে, ঠিক তখনই সেনাপ্রধান আসিম মুনির নিজের হাতে সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করছেন। সেনাশাসনের কালো সত্যি আড়াল করতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ও সম্ভাব্য অভ্যুত্থানের ছক: ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তান চারবার সামরিক অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে (১৯৫৮, ১৯৬৯, ১৯৭৭ ও ১৯৯৯)। সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, এবারও হয়তো একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। জল্পনা চলছে, ‘গণতান্ত্রিক আবরণ’ বজায় রেখে মুনির নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট এবং নাকভিকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করতে পারেন। বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আয়েশা সিদ্দিকার মতে, পর্দার আড়াল থেকে দেশ না চালিয়ে সেনাপ্রধানের উচিত হয় সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, না হয় সরাসরি সামরিক শাসন জারি করে জনগণের মুখোমুখি হওয়া।
সংকট ঘনীভূত হওয়ার সাথে সাথে প্রশ্ন উঠছে—আসিম মুনির কি অবশেষে সামরিক আইনের মাধ্যমে নিজের কর্তৃত্বকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেবেন, নাকি পাকিস্তান নতুন কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার অতলে তলিয়ে যাবে? সময়ই দেবে এর উত্তর।
