ভোজশালা রায়: মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোজশালার কামাল মওলা মসজিদসংক্রান্ত মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে যাচ্ছে কামাল মওলা মসজিদ কমিটি। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি) এই আইনি লড়াইয়ে কমিটিকে সব ধরনের সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করা হয়েছে, রায়টি ঐতিহাসিক তথ্য ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
ঐতিহাসিক তথ্য ও এএসআই-এর অবস্থান
মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মুখপাত্র ড. সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াস এক বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই রায় ঐতিহাসিক নিদর্শন, রাজস্ব রেকর্ড, ঔপনিবেশিক আমলের সরকারি নথিপত্র এবং মসজিদে শতবর্ষ ধরে চলে আসা মুসলিমদের ইবাদতের অধিকারকে উপেক্ষা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক দশক ধরে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই) তাদের সরকারি রেকর্ড ও সাইনবোর্ডে এই স্থানটিকে ‘ভোজশালা/কামাল মওলা মসজিদ’ হিসেবে উল্লেখ করে এসেছে, যা এর যৌথ ধর্মীয় চরিত্রের সরকারি স্বীকৃতি ছিল। এছাড়া ২০০৩ সালের প্রশাসনিক ব্যবস্থা অনুযায়ী, এখানে মঙ্গলবার হিন্দু সম্প্রদায়কে পূজা এবং শুক্রবার মুসলিম সম্প্রদায়কে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নতুন রায়ে এই প্রাচীন ব্যবস্থাকে বাতিল করা হয়েছে।
রায়ের সম্ভাব্য প্রভাব ও আইনি প্রশ্ন
বোর্ডের মতে, হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত ১৯৯১ সালের উপাসনালয় সুরক্ষা আইনের মূল ভাবনার পরিপন্থী। মুসলিম পক্ষের দাবি, ঐতিহাসিক রাজস্ব রেকর্ডে এই ভবনটিকে ক্রমাগত মসজিদ হিসেবেই নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং রাজা ভোজের আমলের সরস্বতী মন্দির এখানেই অবস্থিত ছিল—এমন কোনো অবিসংবাদিত প্রমাণ নেই। সর্বোচ্চ আদালতে এই মামলা যাওয়ার ফলে দীর্ঘদিনের এই সংবেদনশীল ধর্মীয় ও প্রত্নতাত্ত্বিক বিতর্কটি আবারও নতুন করে আইনি পর্যালোচনার মুখে পড়তে যাচ্ছে, যা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ভোজশালা রায়কে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করবে কামাল মওলা মসজিদ কমিটি।
- এই আইনি লড়াইয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড।
- হাইকোর্টের রায়টিকে ১৯৯১ সালের উপাসনালয় আইনের পরিপন্থী ও একতরফা বলে দাবি করেছে মুসলিম পক্ষ।
- ২০০৩ সাল থেকে চলা যৌথ ধর্মীয় উপাসনার প্রশাসনিক ব্যবস্থা বাতিল হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
