ভোটযন্ত্রে বন্দি ভাগ্য: গণনা ঘিরে স্ট্রংরুমে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও কড়া নজরদারি
বাংলার মসনদে কে বসবেন—পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন—তা নির্ধারণে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। সোমবার ভোটগণনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রতিটি গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রংরুমে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। হুগলি থেকে উলুবেড়িয়া, সর্বত্রই ইভিএম-এর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
গণনাকেন্দ্রের সুরক্ষা ও ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা
রাজ্যের প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের বাইরে গড়ে তোলা হয়েছে দুর্ভেদ্য ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে হুগলির শ্রীরামপুর কলেজ, চন্দননগর কলেজ, কানাইলাল স্কুল এবং চুঁচুড়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে উলুবেড়িয়া মহকুমার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণ হবে বীরশিবপুরের ওম দয়াল কলেজে, যেখানে কড়া প্রহরা বসানো হয়েছে।
রাজনৈতিক তৎপরতা ও সজাগ দৃষ্টি
ইভিএম কারচুপি রুখতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও চরম সতর্ক। স্ট্রংরুমের সিসিটিভি ফুটেজ যাতে প্রার্থীর এজেন্ট ও কর্মীরা বাইরে থেকে দেখতে পারেন, তার জন্য বড় মনিটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো খোদ নিজের কেন্দ্রের স্ট্রংরুম পরিদর্শন করে কর্মীদের রাত জেগে পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্ট্রংরুমে প্রবেশের আগে ভিজিটর খাতায় নাম ও সময় নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিচ্যুতি ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট
নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র হলেও কিছু জায়গায় সিসিটিভি বিভ্রাটের অভিযোগ উঠেছে। শ্রীরামপুর কলেজে সাময়িকভাবে মনিটরের লিঙ্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। রাজ্যের আরও কয়েকটি জায়গা থেকেও একই ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগের খবর আসায় প্রশাসন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গণনাকেন্দ্রের আশেপাশে জমায়েতের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এখন সবার নজর কালকের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।
