ভোটের ময়দানে এবার কি পদ্ম ফোটাবে গেরুয়া শিবির? দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসনের মহারণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য রাজনীতির হাইভোল্টেজ লড়াই এখন দ্বিতীয় দফার নির্বাচনকে ঘিরে। কাল রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দফার লড়াই কার্যত ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণের এক বড় পরীক্ষা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিচার করলে দেখা যায়, এই ১৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি মাত্র ১৮টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই পরিসংখ্যান ধরে রাখা এবং নতুন আসন দখল করা বিজেপির কাছে এক মস্ত চ্যালেঞ্জ।
বদল হওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ
গত বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই আসনগুলোতে অনেকটা জল গড়িয়েছে। ২০২১ সালে জেতা ১৮টি আসনের মধ্যে তিনটি উপনির্বাচনে— শান্তিপুর, রানাঘাট দক্ষিণ এবং বাগদায় তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়ে আসনগুলো পুনরুদ্ধার করে। এছাড়া কৃষ্ণনগর উত্তরের জয়ী প্রার্থী মুকুল রায় পরবর্তীকালে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় গেরুয়া শিবিরের বর্তমান আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫-তে। এই ক্ষয়িষ্ণু পরিসংখ্যানকে মেরামত করে ভোটব্যাঙ্ক সংহত করাই এখন বিরোধী শিবিরের মূল লক্ষ্য।
ফলাফলের সম্ভাব্য প্রভাব
এই দফার ভোটের ফলাফল রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মেরুকরণে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য তাদের জেতা আসনগুলো অক্ষুণ্ণ রেখে ব্যবধান বাড়ানো, অন্যদিকে বিজেপির লক্ষ্য হারিয়ে যাওয়া জমি ফিরে পাওয়া। যদি বিজেপি তাদের পুরনো দুর্গগুলো রক্ষা করার পাশাপাশি নতুন আসনে দাঁত ফোটাতে পারে, তবে তা শাসক দলের জন্য চাপের কারণ হবে। অন্যদিকে, তৃণমূল যদি তাদের জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারে, তবে তা রাজ্যে তাদের আধিপত্যকে আরও সুসংহত করবে।
এক ঝলকে
- দ্বিতীয় দফায় কাল রাজ্যের মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
- ২০২১ সালের নিরিখে এই আসনগুলোর মধ্যে মাত্র ১৮টিতে জয়ী হয়েছিল বিজেপি।
- উপনির্বাচন ও দলবদলের কারণে বর্তমানে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫-তে।
- এবারের লড়াইয়ে বিজেপির মূল চ্যালেঞ্জ হলো পুরনো আসন টিকিয়ে রেখে নতুন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা।
