ভোট প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীর ‘চামার’ সম্বোধন ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা – এবেলা

ভোট প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীর ‘চামার’ সম্বোধন ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

চৌরঙ্গীর নির্বাচনী জনসভায় রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতি। তফশিলি জাতিভুক্তদের উদ্দেশ্য করে তাঁর ব্যবহৃত ‘চামার’ শব্দটি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধীদের দাবি, এই ধরনের শব্দ ব্যবহার কেবল কুরুচিকর নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের আত্মসম্মানে চরম আঘাত।

আইনি জটিলতা ও বিরোধীদের তোপ

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাবি করেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই শব্দটিকে অবমাননাকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিরোধীদের মতে, জনসভায় এমন শব্দ প্রয়োগ SC/ST (Prevention of Atrocities) আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। এই ঘটনার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি তুলেছে বিরোধী শিবির।

শাসক দলের সাফাই ও প্রভাব

পাল্টা জবাবে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে প্রসঙ্গের বাইরে নিয়ে গিয়ে বিকৃত করা হচ্ছে। জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতেই বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে এই বিতর্ক তৈরি করছে বলে শাসক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ভোটের আবহে এই বিতর্ক তফশিলি ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের ভাবাবেগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই চাপানউতোর নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

এক ঝলকে

  • চৌরঙ্গীর নির্বাচনী সভায় তফশিলি জাতিভুক্তদের ‘চামার’ সম্বোধন করে বিতর্কে জড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • শব্দটিকে আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ ও অবমাননাকর বলে দাবি বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের।
  • মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও উপজাতি নিগ্রহ বিরোধী আইনে পদক্ষেপের দাবি তুলেছে বিরোধীরা।
  • তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *