মঠের মায়া থেকে রাজনীতির শিখর, যোগী আদিত্যনাথের সন্ন্যাস ও সাফল্যের নেপথ্য কাহিনি – এবেলা

মঠের মায়া থেকে রাজনীতির শিখর, যোগী আদিত্যনাথের সন্ন্যাস ও সাফল্যের নেপথ্য কাহিনি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অজয় মোহন বিষ্ট থেকে যোগী আদিত্যনাথ হয়ে ওঠার গল্পটি এক অসাধারণ ত্যাগের কাহিনি। ১৯৭২ সালে উত্তরাখণ্ডের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া অজয় ছাত্রজীবন থেকেই হিন্দুত্ববাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি সংসার ত্যাগ করে গোরক্ষপুরে পাড়ি জমান। তাঁর এই জীবন পরিবর্তনের নেপথ্যে ছিলেন গোরক্ষপীঠের তৎকালীন মহন্ত অবৈধনাথ। একটি বিতর্ক সভায় অজয় বিষ্টের বক্তব্য শুনে মুগ্ধ হয়ে মহন্ত অবৈধনাথ তাঁকে গোরক্ষপুরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

গুরু-শিষ্যের অটুট বন্ধন ও ত্যাগের সূচনা

মহন্ত অবৈধনাথ এবং যোগী আদিত্যনাথ—উভয়েরই আদি বাড়ি ছিল উত্তরাখণ্ডে। গুরুর অসুস্থতার খবর পেয়ে যোগী যখন গোরক্ষপুরে পৌঁছান, তখন রাম জন্মভূমি আন্দোলনের লড়াই এবং মন্দিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত মহন্ত তাঁকে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা এবং আদর্শের টানে যোগী আদিত্যনাথ চাকুরির বাহানা করে ঘর ছাড়েন এবং গোরক্ষনাথ মন্দিরে আশ্রয় নেন। মহন্ত অবৈধনাথের সান্নিধ্যেই তিনি আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক দীক্ষা লাভ করেন।

রাজনীতিতে প্রবেশ ও সাফল্যের শিখর

১৯৯৮ সালে মহন্ত অবৈধনাথ রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নিলে যোগী আদিত্যনাথ তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতিতে পা রাখেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে গোরক্ষপুর থেকে কনিষ্ঠতম সাংসদ হিসেবে লোকসভায় নির্বাচিত হয়ে তিনি চমক সৃষ্টি করেছিলেন। টানা পাঁচবার সাংসদ থাকার পর ২০১৬ সালে তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গুরুর দেখানো পথ অনুসরণ করেই তিনি আজ উত্তর ভারতের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

এক ঝলকে

  • অজয় মোহন বিষ্ট থেকে যোগী আদিত্যনাথ হওয়ার মূল কারিগর ছিলেন মহন্ত অবৈধনাথ।
  • গুরুর অসুস্থতা এবং রাম মন্দির আন্দোলনের দায়িত্ব কাঁধে নিতেই ২২ বছর বয়সে সংসার ত্যাগ করেন যোগী।
  • ১৯৯৮ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে দেশের কনিষ্ঠতম সাংসদ হিসেবে তাঁর সংসদীয় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে।
  • গোরক্ষপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবার জয়লাভের পর তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *