মতুয়াদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিলে ভয়ংকর পরিণতির হুঁশিয়ারি মমতার

রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া। বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাতিলের ইস্যুতে কেন্দ্র ও বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মতুয়াগড় চাকদহ-বনগাঁর জনসভা থেকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মতুয়াদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে তিনি রুখে দাঁড়াবেন।
ভোটার তালিকা ও ট্রাইব্যুনাল প্রসঙ্গ
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এবং ষড়যন্ত্র করে বেছে বেছে মতুয়াদের নাম বাদ দিয়েছে।
- ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ: বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফেরাতে তৃণমূল কংগ্রেস ট্রাইব্যুনালে যাবে।
- আইনি লড়াই: ভোটের আগেই যাতে নাগরিকরা তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পান, তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নেত্রী।
- টার্গেট এলাকা: মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর দিনাজপুরে পরিকল্পিতভাবে নাম কাটা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
বিজেপিকে কড়া বার্তা ও হুঁশিয়ারি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, মতুয়াদের আসাম্মান করা হলে তিনি ‘ভয়ঙ্কর’ রূপ ধারণ করবেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ঠাকুরবাড়ির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে ভোট ব্যাংক দখলের রাজনীতি করছে। তদন্তকারী সংস্থা ইডি-সিবিআই-এর অপব্যবহার নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর মতে, শুধু বিজেপি করার কারণেই অনেক নেতার দুর্নীতি ঢাকা পড়ে যাচ্ছে, যা তিনি বরদাস্ত করবেন না।
নির্বাচনী কৌশল ও প্রভাব বিশ্লেষণ
তৃণমূল নেত্রীর এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে নাগরিকত্ব এবং ভোটাধিকারই প্রধান ইস্যু হতে যাচ্ছে। ভোটারদের এই হয়রানির জবাব ব্যালট বক্সে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতুয়া ভোটব্যাংক ধরে রাখা এবং এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্পের আতঙ্ককে ঢাল করেই তৃণমূল তাদের নির্বাচনী প্রচার সাজাচ্ছে।
একঝলকে
- ২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন মমতা।
- মতুয়াদের নাম ‘উকুনের মতো’ বেছে বেছে বাদ দেওয়ার অভিযোগ।
- বাদ পড়া নাম ফেরাতে আইনি লড়াই ও ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার ঘোষণা।
- ঠাকুরবাড়িতে বিভাজন ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি।
- ভোটারদের এই অপমানের বদলা ভোট দিয়ে নেওয়ার আহ্বান।
