মমতার গড়ে পদ্ম-ঝড়! ১০০-র নিচে আটকে যাচ্ছে তৃণমূল? প্রাথমিক ট্রেন্ডে ১৮৭ ছাড়ালো বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার শুরুর লগ্ন থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে অনেকটা পিছনে ফেলে ম্যাজিক ফিগারের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ঘাসফুল শিবির এবার ১০০-রও কম আসনে আটকে যেতে পারে।
এদিন সকালে ভোটগণনা শুরু হতেই পোস্টাল ব্যালটে নিজেদের আধিপত্য জানান দেয় বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, ইভিএম গণনা শুরু হলে হয়তো তৃণমূল ঘুরে দাঁড়াবে, কিন্তু বাস্তবে সেই চিত্র দেখা যায়নি। বরং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলোতে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীরা একতরফা লিড নিতে শুরু করেন। উত্তরবঙ্গ, যা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানেও দার্জিলিং থেকে মালদা পর্যন্ত প্রতিটি আসনেই তৃণমূল প্রার্থীরা ব্যাকফুটে রয়েছেন।
প্রেসিডেন্সি এলাকায় বড় চমক
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক দেখা যাচ্ছে প্রেসিডেন্সি ও কলকাতা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। ঐতিহ্যগতভাবে এই অঞ্চলগুলো তৃণমূলের দুর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও, প্রাথমিক ট্রেন্ড বলছে সেখানেও বিজেপি অভূতপূর্ব ফল করতে চলেছে। এমনকি ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল আসনেও কড়া টক্করের খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, যদি এই ট্রেন্ড বজায় থাকে তবে বিজেপি ২০০-র গণ্ডি অনায়াসেই পার করে যাবে।
পরিবর্তনের হাওয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই অভাবনীয় ফলের নেপথ্যে মূলত জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের জনসমর্থন এবং দক্ষিণবঙ্গের শহরাঞ্চলে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদি চূড়ান্ত ফলাফলে তৃণমূল ১০০-র নিচে নেমে আসে, তবে তা হবে রাজ্যের গত দেড় দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবথেকে বড় বিপর্যয়। অন্যদিকে, এই জয় নিশ্চিত হলে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামো এবং নীতি নির্ধারণে এক আমূল পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জাতীয় রাজনীতিতেও বিজেপির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
