মহাকাশ বিজ্ঞানে ভারতের জয়জয়কার, নাসাকে টক্কর দিয়ে চাঁদের ম্যাপ তৈরিতে রাঁচির তিন মহিলা বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী এআই প্রযুক্তি – এবেলা

মহাকাশ বিজ্ঞানে ভারতের জয়জয়কার, নাসাকে টক্কর দিয়ে চাঁদের ম্যাপ তৈরিতে রাঁচির তিন মহিলা বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী এআই প্রযুক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নয়া অধ্যায় তৈরি করলেন ভারতের তিন মহিলা বিজ্ঞানী। ঝাড়খণ্ডের রাঁচির বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (বিআইটি) মেসরা-র গবেষকরা এমন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যা ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখন চন্দ্রপৃষ্ঠের গর্ত বা ‘ক্রেটার’ অত্যন্ত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে চিহ্নিত এবং বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এতদিন এই জটিল কাজটি ভূবিজ্ঞানীদের দীর্ঘ সময় ধরে হাতে কলমে করতে হতো।

যেভাবে কাজ করবে এই আধুনিক এআই প্রযুক্তি

কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. সঞ্চিতা পাল, রিমোট সেন্সিং বিভাগের ড. মিলি ঘোষ এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মীমাংসা সিনহা গত তিন বছরের গবেষণায় এই অসাধ্য সাধন করেছেন। বিজ্ঞানীরা নাসার লুনার রিকনেসান্স অরবিটার এবং ভারতের চন্দ্রযান মিশনের জটিল ডেটাসেট ব্যবহার করে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করেছেন। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ১০১ লেয়ারের গভীর আর্কিটেকচার সম্বলিত বিশেষ প্রযুক্তি, যা চাঁদের এবড়োখেবড়ো উপত্যকা থেকেও নিখুঁত তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম। এছাড়া বিজ্ঞানীদের তৈরি নিজস্ব সফটওয়্যার এক্সটেনশন ‘ক্রিটারমরফো’ (CraterMorpho) চন্দ্রপৃষ্ঠের যেকোনো গর্তের ব্যাস, গভীরতা ও ঢাল মুহূর্তের মধ্যে পরিমাপ করে ফেলে। এমনকি মাত্র ২০০ মিটার চওড়া ছোট গর্ত বা একটি গর্তের ভেতরের আরেকটি গর্তের মতো জটিল জ্যামিতিক গঠনও এই প্রযুক্তিতে অনায়াসে ধরা পড়েছে।

চন্দ্রাভিযানের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই প্রযুক্তি আগামী দিনের মহাকাশ অভিযানে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে। চন্দ্রপৃষ্ঠের নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করার পাশাপাশি এটি চাঁদের বিভিন্ন অংশের প্রকৃত বয়স নির্ণয় করতে সাহায্য করবে। এছাড়া, ৫০ বছর আগের ছবির সাথে বর্তমান স্যাটেলাইট ছবির তুলনা করে চাঁদে নতুন কোনো উল্কাপাত হচ্ছে কি না, তা-ও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই এআই প্রযুক্তি চাঁদের গর্তগুলোকে নতুন, মাঝারি ও পুরনো—এই তিন ভাগে বিভক্ত করে মসৃণ এলাকা চিহ্নিত করবে। এর ফলে ভবিষ্যতের চন্দ্রযান বা মানববাহী মহাকাশযানের জন্য নিরাপদ ল্যান্ডিং স্পট বা অবতরণ ক্ষেত্র নির্বাচন করা অনেক সহজ হবে। ইতিমধ্যেই এই বিজ্ঞানী দল চন্দ্রযান-৩ এর ডেটা নিয়ে চাঁদের রহস্যময় দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে কাজ করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা আগামী দিনের চন্দ্রযান-৪ মিশনের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *