‘অভিষেকের রক্ত জমে গিয়েছিল, বিজেপি হাসপাতাল থেকে ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল’: বিস্ফোরক মমতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা ও বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর!
সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় অভিষেকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই, বিজেপি নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আক্রান্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীরে একাধিক জায়গায় ‘ব্লাড ক্লট’ বা রক্ত জমাট বেঁধেছে, যার ফলে তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতেও তাঁকে হাসপাতাল থেকে তড়িঘড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চিকিৎসায় বাধা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
শনিবার এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, অভিষেকের আইটিইউ (ITU)-তে চিকিৎসা চলাকালীন বিজেপি নেতা ও পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লাগাতার হুমকিমূলক ফোন করছেন। তিনি জানান, অভিষেকের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য থোরাসিক পরীক্ষা, ইউএসজি এবং থ্রি-ডি সিটি স্ক্যানের মতো জটিল পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছাড়ার চাপ প্রয়োগ করাকে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা বলে বর্ণনা করেছেন মমতা। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, অভিষেকের কোনো ক্ষতি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও দায়ী ব্যক্তিদের নিতে হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রতিবাদের ডাক
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বর্তমানে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে পরিবারের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ যাবতীয় সরঞ্জাম মজুত রাখা হয়েছে। হামলার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগেভাগে পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস রবিবার থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে। এছাড়া সোমবার রানি রাসমণি রোডে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নেতৃত্ব দেবেন। ঘটনাটি নিয়ে রাহুল গান্ধী, কপিল সিব্বল ও অখিলেশ যাদবের মতো জাতীয় স্তরের নেতারাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হামলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে এখন ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে।
