মাছ চুরির অভিযোগে ধৃত সোনারপুরের কাউন্সিলর, কাটমানি কাণ্ডে শ্রীঘরে বসিরহাটের তৃণমূল নেতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হচ্ছেন বিদায়ী বা বর্তমান শাসকদলের জনপ্রতিনিধিরা। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভেড়ি থেকে মাছ চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বরুণ সরকার। অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোপাল দাসকে। পরপর দুই জনপ্রতিনিধির গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ভেড়ি থেকে মাছ লোপাটের চেষ্টা, সোনারপুরে বিক্ষোভ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোরে সোনারপুরের বোরাল এলাকায় দলবল নিয়ে একটি ভেড়ি থেকে মাছ তুলছিলেন কাউন্সিলর বরুণ সরকার। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে হাতেনাতে ধরে মাছ চুরির অভিযোগ তোলেন এবং চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করে। যদিও ধৃত কাউন্সিলরের দাবি, তিনি সমবায় থেকে লিজ নিয়েই ওই ভেড়িতে মাছ চাষ করেছিলেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিরোধীরা তাঁর মাছ চাষের ক্ষতি করতে পারে, এই আশঙ্কাতেই তিনি ভোররাতে মাছ তুলে নিচ্ছিলেন। পুলিশ ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।
আবাস যোজনায় কাটমানি, শ্রীঘরে বসিরহাটের কাউন্সিলর
অন্য একটি দুর্নীতি মামলায় শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বসিরহাট পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর গোপাল দাস। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি আবাসের উপভোক্তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাটমানি না দিলে গরিব মানুষ ঘর পেতেন না। এর পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমতে থাকার পর অবশেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যাওয়ায় এতদিন চাপা পড়ে থাকা দুর্নীতির অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। জনপ্রতিনিধিদের এমন বেনজির গ্রেপ্তারি একদিকে যেমন স্থানীয় স্তরে প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও উস্কে দিচ্ছে। এই ঘটনাগুলোর জেরে সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলোর প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শাসক শিবিরের ওপর রাজনৈতিক চাপ এবং অস্বস্তি আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
