মাঝরাতে প্রাক্তন তৃণমূল নেতার বাড়িতে পুলিশের স্পেশাল অপারেশন, উদ্ধার পাইপগান ও কার্তুজ – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/18/murshidabad-2026-05-18-14-50-25.jpg)
এবেলা ডেস্কঃ
মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘীতে এক চরম নাটকীয় ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সোমবার ভোররাতে সাগরদিঘী ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি নূরে মেহবুব আলমের বাড়িতে এক আকস্মিক ও গোপন তল্লাশি অভিযান চালায় জেলা পুলিশ। এই ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’-এর ফলে ওই নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা কার্তুজ এবং ধারালো অস্ত্র। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করতে পারলেও মূল অভিযুক্ত প্রাক্তন ব্লক সভাপতি সুচতুরভাবে এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছেন।
অপারেশন মাঝরাত ও অস্ত্র উদ্ধার
দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরের কাছে খবর আসছিল যে, প্রাক্তন তৃণমূল নেতার বাড়িতে বেআইনি অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে। সোমবার ভোরে গোপন সূত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে সাগরদিঘী থানার পুলিশ ওই নেতার বাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশিতে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ১টি একনলা দেশীয় পাইপগান, ১৭টি তাজা কার্তুজ, ৪টি উন্নতমানের ম্যাগাজিন এবং ১টি তলোয়ার। এর পাশাপাশি পুলিশ ওই নেতার একটি বিলাসবহুল মোটর গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছে, যার সামনের কাচে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা রয়েছে, “নূরে মেহবুব আলম, ব্লক প্রেসিডেন্ট, সাগরদিঘী”। বেআইনি অস্ত্র ঘরে লুকিয়ে রাখার অপরাধে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জিয়ারুল শেখ (২২) নামের এক যুবক এবং অপর এক নাবালককে গ্রেফতার করেছে। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়েই মূল অভিযুক্ত নূরে মেহবুব আলম গা ঢাকা দেন।
অস্ত্র মজুতের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ধরন এবং ম্যাগাজিনগুলোর কার্যক্ষমতা দেখে স্পষ্ট যে, কোনো বড়সড় অপরাধমূলক বা নাশকতামূলক কাজের ছক কষা হচ্ছিল। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সমীকরণ বদলে যাওয়ার পর, মুর্শিদাবাদের গ্রামীণ এলাকায় নিজেদের রাজনৈতিক একাধিপত্য ও প্রভাব ধরে রাখতেই এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করা হচ্ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনার ফলে গ্রামীণ এলাকায় রাজনৈতিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পলাতক নেতার অবস্থান এবং এই অস্ত্র কারবারের নেপথ্যে থাকা অন্যান্য চক্রের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে সাগরদিঘী থানার পুলিশ।
