মাত্র ১২০০ টাকার সুপারি দিয়ে স্বামীকে খুন করালেন স্ত্রী! পরকীয়া আড়াল করতে হাড়হিম করা কাণ্ড – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জয়পুর: পরকীয়া প্রেমের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্বামী। আর সেই অপরাধেই মাত্র ১২০০ টাকার বিনিময়ে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করালেন স্ত্রী! রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের ত্রিবেনি নগর উড়ালপুলের নিচে ঘটে যাওয়া এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে নিহতের স্ত্রী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, গত ৩ বছর ধরে তাঁদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক চলছিল।
মূলত মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীর বাসিন্দা মহেশ জাতভ নামে ওই যুবক জয়পুরে দিনমজুরের কাজ করতেন। সম্প্রতি স্ত্রী আরতির সঙ্গে মোনু চৌধুরী নামে এক যুবকের পরকীয়ার কথা জেনে যান মহেশ। তিনি স্ত্রীকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন এবং আরতির ফোন থেকে প্রেমিকের নম্বর ব্লক করে দেন।
বন্ধুত্বের নাটক ও মদের পার্টি:
নিজেদের প্রেমে বাধা আসায় মহেশকে রাস্তা থেকে সরানোর ছক কষে প্রেমিক মোনু। তবে সে মহেশের সঙ্গে শত্রুতা না করে উল্টে বন্ধুত্বের নাটক শুরু করে। মহেশের বিশ্বাস অর্জন করতে সে প্রায়ই তাকে মদের পার্টির লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যেত।
ইনস্টাগ্রাম কলে বার্তা: “কাজ শেষ!”
ঘটনার দিন আরতি তার প্রেমিক মোনুকে নগদ ১২০০ টাকা দেয় এবং স্বামীকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার কথা বলে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১১ জুন মোনু মদের পার্টির বাহানায় মহেশকে ত্রিবেনি নগর উড়ালপুলের নিচে ডেকে নিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত মদ খাওয়ায়।
মহেশ পুরোপুরি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে, মোনু তাকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে খুন করে। পুলিশ যাতে টের না পায়, সেজন্য খুনের পরপরই সাধারণ কল না করে ইনস্টাগ্রাম অডিও কলের মাধ্যমে আরতিকে ফোন করে মোনু জানায়— “কাজ শেষ!” এরপর একটি অনলাইন বাইক বুক করে সে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
৫০০ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ৫০ কিমি তাড়া করে গ্রেপ্তার:
উড়ালপুলের নিচে রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই এলাকার প্রায় ৫০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘাতক মোনুর সন্ধান পায়। ধরা পড়ার ভয়ে মোনু ক্রমাগত নিজের লোকেশন বদলে জয়পুর থেকে মধ্যপ্রদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু পুলিশ পিছু না ছেড়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার তাড়া করে রিং রোড এলাকা থেকে তাকে ধরে ফেলে। পুলিশের জেরার মুখে মোনু স্বীকার করেছে যে, স্ত্রী আরতির প্ররোচনাতেই সে মহেশকে খুন করেছে। বর্তমানে দুজনেই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
