মাত্র ৯ দিনে প্রতিশ্রুতি পূরণ, শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় ৫ মেগা সিদ্ধান্ত! – এবেলা

মাত্র ৯ দিনে প্রতিশ্রুতি পূরণ, শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় ৫ মেগা সিদ্ধান্ত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে পালাবদলের পর সরকার গঠনের মাত্র নয় দিনের মাথায় বড়সড় চমক দিল বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নবান্নে আয়োজিত দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ মানুষ এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য একাধিক জনমুখী ঘোষণার পাশাপাশি পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বেশ কিছু নীতিতে আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে গতি বাড়িয়ে এই বৈঠকে মূলত পাঁচটি বড় সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে।

জনকল্যাণ ও সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্তি

মন্ত্রিসভার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটের আগে ৪৫ দিনের মধ্যে এই কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মাত্র নয় দিনের মাথায় তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় স্তরে অষ্টম বেতন কমিশনের আবহ তৈরি হলেও, রাজ্যের ষষ্ঠ বেতন কাঠামোর বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন কর্মচারীরা।

পাশাপাশি, রাজ্যের মহিলাদের জন্য দু’টি বড় উপহারের অনুমোদন দিয়েছে ক্যাবিনেট। ১ জুন থেকে কার্যকর হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা’, যেখানে যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাংকে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবেন। তবে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে বাদ পড়া ৯১ লক্ষ নাম এই সুবিধার বাইরে থাকবে, যদিও সিএএ আবেদনকারী ও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার মহিলারা এই সুবিধা পাবেন। এর পাশাপাশি ১ জুন থেকেই পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা দূরপাল্লাসহ সমস্ত সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন, যা নারী ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

নীতি পরিবর্তন ও ধর্মীয় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ

জনমুখী প্রকল্পের পাশাপাশি পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের একাধিক ধর্মীয় নীতিতে বড়সড় কাটছাঁট করেছে বর্তমান ক্যাবিনেট। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যে ইমাম ভাতা, পুরোহিত ভাতা এবং মাদ্রাসার আর্থিক সাহায্যসহ সমস্ত ধরনের ধর্মীয় আর্থিক ভাতা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হচ্ছে।

একই সাথে পূর্বতন সরকারের আমলে ঘোষিত বিভিন্ন ধর্মীয় প্রকল্প, যেমন নিউটাউনের দুর্গাঙ্গন বা শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের নির্মাণকাজ চলতি মাসের শেষে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে প্রশাসনিক খরচে সমতা আনা এবং ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর মধ্যে থেকে কেবল মাত্র উন্নয়নমূলক ও অর্থনৈতিক প্রকল্পে সরকারি তহবিলের ব্যবহার নিশ্চিত করা। এই সংস্কারের ফলে একদিকে যেমন রাজকোষের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিমুখও স্পষ্ট রূপ লাভ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *