মাদ্রাজ হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়: ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকাকে গর্ভপাতের অনুমতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গর্ভপাতের আইনি সময়সীমা ২৪ সপ্তাহ হলেও, যৌন নির্যাতনের শিকার এক ১৬ বছরের কিশোরীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। আদালত ৩০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা অবসানের অনুমতি দিয়ে স্পষ্ট করেছে যে, নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা ‘রিপ্রোডাক্টিভ চয়েস’ একজন নারীর মৌলিক এবং ব্যক্তিগত অধিকারের অংশ।
নজিরবিহীন আইনি লড়াই
ঘটনার সূত্রপাত যখন ওই কিশোরীর মা তার মেয়ের গর্ভাবস্থার বিষয়টি জানতে পারেন। ঘটনার পর পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করা হলেও, শারীরিক পরীক্ষায় জানা যায় কিশোরীটি ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। মেডিকেল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি (MTP) আইনের নির্ধারিত ২৪ সপ্তাহের সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গর্ভপাত করতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রতিকারের আশায় কিশোরীর মা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।
মানবিক ও সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি
বিচারপতি ডি. ভরত চক্রবর্তীর বেঞ্চ এই মামলায় গর্ভাবস্থার মেয়াদ বা ভ্রূণের বয়সের চেয়ে ভুক্তভোগীর মানসিক ও শারীরিক অবস্থাকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। আদালত একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, যদি চিকিৎসকরা মনে করেন গর্ভপাত কিশোরীর জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে না, তবে কোনো আইনি জটিলতা বা গড়িমসি ছাড়াই তা সম্পন্ন করতে হবে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের ফলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় আটকা পড়া ভুক্তভোগীদের জন্য এক নতুন পথ উন্মোচিত হলো। একইসঙ্গে, একজন নারীর সম্মতি এবং শারীরিক স্বায়ত্তশাসন যে কোনো আইনি বেড়াজালের চেয়েও ঊর্ধ্বে, এই রায়ের মাধ্যমে তা ফের জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো।
