“মানুষের টাকা চুরি করলে শাস্তি হবেই!” সুজিতের গ্রেপ্তারিতে ইকো পার্ক থেকে তোপ দিলীপের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেপ্তারি ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। সোমবার রাতে দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা জেরার পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে হেফাজতে নেয়। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনা প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ বার্তা, সাধারণ মানুষের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে, আইন তাদের কাউকেই রেহাই দেবে না।
তদন্তের জালে হেভিওয়েট নেতা
দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার স্ক্যানারে ছিলেন সুজিত বসু। একাধিকবার ইডি-র তলব এড়ালেও সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনও হেভিওয়েট নেতার এমন গ্রেপ্তারির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “সরকারের কাছে কোনও ব্যক্তি বড় নয়। গত ১৫ বছর ধরে চলা দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রশাসন নিজের কাজ করছে। যারা সাধারণ মানুষের হক কেড়েছে, তাদের শাস্তি পেতেই হবে।”
শারীরিক অসুস্থতা ও আইনি প্রক্রিয়া
সোমবার রাতে গ্রেপ্তারের পর সিজিও কমপ্লেক্সেই রাখা হয়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রীকে। সেখানে থাকাকালীন তিনি শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান, যার ফলে রাতেই তাঁর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে আসতে হয়। মঙ্গলবার সাতসকালে বিধাননগর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করার তোড়জোড় শুরু হয়।
দুর্নীতির প্রভাব ও রাজনৈতিক বার্তা
সুজিত বসুর এই গ্রেপ্তারি রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে স্পষ্ট যে, দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে কোনও আপস করবে না বর্তমান সরকার। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে পুর নিয়োগ দুর্নীতির শিকড় আরও গভীরে পৌঁছাতে পারে এবং আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী নাম তদন্তের আওতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মূলত দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতেই প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
