মালদায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত প্রৌঢ় ধৃত, প্রধান শিক্ষককে গণপিটুনি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
September 16, 20267:12 am
গাজোল (মালদা): স্কুলের দরজাহীন শৌচালয় সংলগ্ন ঘর থেকে চার বছরের এক প্রাক-প্রাথমিক ছাত্রীকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুকন্যাটি বর্তমানে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে মালদার গাজোল এলাকায়। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেও, দীর্ঘদিনের গাফিলতি ও বিষয়টি চেপে যাওয়ার অভিযোগে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা।
ঘটনার বিবরণ স্থানীয় সূত্রের খবর, স্কুলের শৌচালয়ের দরজা না থাকার সুযোগ নিয়ে গত ১৫ দিন ধরেই ছাত্রীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালাচ্ছিলেন পাশের বাড়ির এক প্রৌঢ়। কাউকে বললে ছুরি দিয়ে কেটে ফেলার হুমকি দিতেন তিনি। সোমবার সকালে মিড-ডে মিলের রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন নির্যাতিতা শিশুর মা। সেই সময় বাথরুমে গেলে ওই শিশুকে নিজের ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জ্ঞান ফিরলে শিশুটি অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করে।
শিক্ষকের গাফিলতি ও জনরোষ অভিভাবকদের ক্ষোভের মূল কারণ প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা। তাঁদের দাবি, প্রৌঢ়ের যৌন নির্যাতনের বিষয়ে আগে একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ করেননি। উল্টে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আপসে মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। মঙ্গলবার ফের অভিযোগ জানাতে গেলে প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসী প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষককে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকেই গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক তোলপাড় ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিলেও মঙ্গলবার বিকেলে এক গোপন ডেরা থেকে অভিযুক্ত প্রৌঢ়কে গ্রেপ্তার করে গাজোল থানার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা করা হয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে স্কুলে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান জেলা পরিষদের সদস্যা তথা বিজেপি নেত্রী বিনা সরকার কীর্তনীয়া। তিনি নিষ্ক্রিয়তার দায়ে প্রধান শিক্ষকের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ পুরো ঘটনার বিশদ তদন্ত শুরু করেছে।
