‘মা-কে মরতেই হবে!’ ডিজিটাল অ্যারেস্টের আতঙ্কে আত্মঘাতী গৃহবধূ, উদ্ধার বুক ফাটানো সুইসাইড নোট

উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে সাইবার অপরাধীদের মানসিক নিগ্রহ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন ২৮ বছর বয়সী এক গৃহবধূ। মনিকা নামের ওই নারী নিজের ঘরেই চরম পথ বেছে নেন, যার নেপথ্যে উঠে এসেছে তথাকথিত ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয়ঙ্কর চিত্র। অভিযুক্তরা পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা সেজে তাকে মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগে দীর্ঘক্ষণ ভিডিও কলে আটকে রেখে ব্ল্যাকমেইল করছিল বলে জানা গেছে।
নেপথ্যে সাইবার অপরাধের নীল নকশা
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও মনিকার মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে দেখা গেছে, প্রতারকরা তাকে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। অন্তত পাঁচটি ভিন্ন নম্বর থেকে আসা হোয়াটসঅ্যাপ কল ও ভয়েস নোটে তাকে ভয় দেখানো হয়। অপরাধীরা নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মনিকাকে ঘরে কার্যত বন্দি থাকতে বাধ্য করে এবং বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করে। এই ধরণের প্রতারণা বর্তমানে ভারতে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নামে পরিচিত, যেখানে সাধারণ মানুষকে আইনি ভয় দেখিয়ে পর্দার ওপার থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
পরিবার ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
অত্যন্ত মর্মান্তিক বিষয় হলো, মনিকার শেষকৃত্য চলাকালীনও প্রতারকদের ফোন আসা বন্ধ হয়নি। নিহতের আত্মীয়রা ফোন ধরলে ওপাশ থেকে এক ব্যক্তিকে পুলিশের পোশাকে দেখা যায়, যে মৃত্যুর খবর শুনেও আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিতে থাকে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিজনোর পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করেছে। ফোন কল রেকর্ড ও বার্তার সূত্র ধরে সাইবার সেল এখন অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনা ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে সাইবার ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে ২৮ বছর বয়সী গৃহবধূর আত্মহত্যা।
- পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপরাধীরা তাকে মানবপাচারের মিথ্যা অভিযোগে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে মানসিক চাপ দিচ্ছিল।
- সুইসাইড নোটে নিজের অসহায়ত্বের কথা এবং সন্তানদের প্রতি ক্ষমা চেয়ে শেষ বার্তা রেখে গেছেন ভুক্তভোগী।
- মৃতদেহের শেষকৃত্য চলাকালীনও অভিযুক্তরা নিহতের ফোনে ভিডিও কল করে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয়।
