মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পরেও মিলছে না বেড, কলকাতা মেডিক্যালের সুপারকে বদলি করল নবান্ন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং রোগী পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল নবান্ন। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালে বেড না পেয়ে রোগীদের ফিরে যাওয়ার অভিযোগ উঠছিল। এই গাফিলতির জেরে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার (MSVP) চিকিৎসক অঞ্জন অধিকারীকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে আপাতত এই দায়িত্ব সামলাবেন জেনারেল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক চিকিৎসক শান্তনু সেন। ২৫ মে থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।
দালালরাজ নির্মূল ও কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ
প্রশাসন সূত্রে খবর, বিগত সরকারের আমলে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে বেড পাওয়া নিয়ে ব্যাপক দালালরাজের অভিযোগ উঠেছিল। বেড ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও টাকার বিনিময়ে রোগী ভর্তি করানোর মতো অনৈতিক চক্র সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ। নয়া মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর এই দালালরাজ পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে মরিয়া রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। কলকাতা মেডিক্যালের সুপারের এই আকস্মিক বদলি মূলত সেই কড়া বার্তারই অংশ, যেখানে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে রোগী পরিষেবায় কোনও ধরনের খামতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোয় বড় বদল
কলকাতার প্রধান পাঁচটি সরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর মহাপরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। শুধু চিকিৎসা পরিষেবাই নয়, হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে কড়া পুলিশি নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সামান্য অশান্তিতে সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনা রুখতে কঠোর আইন আনা হচ্ছে, যেখানে দোষীদের মোটা টাকা জরিমানা এবং জেলের বিধান থাকবে।
এখন থেকে হাসপাতালগুলিতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নির্দিষ্ট ভিজিটিং আওয়ার্স ছাড়া রোগীর আত্মীয়রা যত্রতত্র ঘুরে বেড়াতে পারবেন না এবং প্রবেশপথে তল্লাশি চালানো হবে। পাশাপাশি, হাসপাতালের ভেতরে বাইরের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে হাসপাতালের সমস্ত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী, অ্যাম্বুল্যান্স চালক এবং অন্যান্য কর্মীদের একটি বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার বা ডেটাবেস তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বহিরাগতদের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা সম্ভব হয়।
