মুহূর্তে বদলে গেল পরিবেশ! ‘পেড্ডি’ ইভেন্টে কেন আতঙ্কিত হলেন জাহ্নবী কাপুর? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলাদেশি পোশাকের বিশ্বস্ত বাজার হিসেবে ইউরোপের অবস্থান দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছে। উল্টোদিকে, ইউরোর বাজারে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এশিয়ার আরেক দেশ ভিয়েতনাম। সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইউরোপের ফ্যাশন বাজারে হিস্যা বাড়ানোর দৌড়ে বাংলাদেশকে রীতিমতো টক্কর দিচ্ছে দেশটি।
ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের প্রথম ১০ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কমেছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ইউরোপের বাজারে সামগ্রিকভাবেই পোশাকের চাহিদা এবং আমদানি হ্রাস পেয়েছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও ভিয়েতনামের রপ্তানি পতনের হার বাংলাদেশের চেয়ে বেশ কম, যা বিশ্ববাজারে তাদের শক্ত অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়।
মূল্যের দৌড়ে ভিয়েতনামের আগ্রাসী নীতি
বাংলাদেশ এখনো মূলত কম দামি ও সাধারণ পোশাক (টি-শার্ট, ডেনিম ইত্যাদি) রপ্তানিতে আধিপত্য ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম দীর্ঘদিন ধরেই কৃত্রিম তন্তু (ম্যান-মেড ফাইবার) এবং উচ্চমূল্যের ওভেন পোশাক তৈরিতে নিজেদের দক্ষ করে তুলেছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমানে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের চেয়েও কম মূল্যে পোশাক সরবরাহ করছে ভিয়েতনাম। ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে, ইউরোপে যেখানে বাংলাদেশের পোশাকের গড় মূল্য প্রতি কেজি ২২ ডলারের কাছাকাছি, সেখানে ভিয়েতনামের পোশাকের গড় মূল্য প্রায় ২১ ডলার। প্রতি কেজিতে ১ ডলারের এই পার্থক্যই ইউরোপের ক্রেতাদের ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে।
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও উন্নত প্রযুক্তির প্রভাব
ভিয়েতনামের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তাদের করা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইইউ-ভিয়েতনাম এফটিএ)। এই চুক্তির ফলে ভিয়েতনাম শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইউরোপে পণ্য পাঠাতে পারছে, যা তাদের উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করেছে। এর পাশাপাশি ভিয়েতনামের উন্নত বন্দর অবকাঠামো, দ্রুত পণ্য সরবরাহের (লিড টাইম) ক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তাদেরকে বৈশ্বিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তৈরি পোশাক খাতের এই তীব্র প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউরোপে বাজার ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে এখন দ্রুত সাধারণ পোশাকের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কৃত্রিম তন্তু বা ব্লেন্ডেড কাপড়ের পোশাকের উৎপাদন বাড়ানো, কারখানার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, ভিয়েতনামের এই আগ্রাসী অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলতে পারে।
