মৃত্যুর মুহূর্তে কেন গীতা শোনানো হয়? শাস্ত্রীয় তাৎপর্য কী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অস্তিময় মুহূর্তে শান্তির পরশ পেতে কেন শোনা হয় পবিত্র গীতা
মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হলো মৃত্যু। জীবনের শেষলগ্নে দাঁড়িয়ে যখন মানুষ অজানার পথে পা বাড়ায়, তখন তার মনে জন্ম নেয় গভীর ভীতি ও হাহাকার। হিন্দু ধর্মে এই অন্তিম মুহূর্তে মৃতপ্রায় ব্যক্তিকে পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা শোনানোর এক দীর্ঘকালীন প্রথা রয়েছে। কেন এই রীতি আজও পালন করা হয়, তার পেছনে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
ভয় ও শোক দূর করে মানসিক প্রশান্তি
গীতার প্রথম অধ্যায়ে কুরুক্ষেত্রের রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে অর্জুন যখন শোকে ও বিষাদে ভেঙে পড়েছিলেন, তখন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ তাকে জীবনের আসল অর্থ ও অবিনশ্বর সত্তার কথা শুনিয়েছিলেন। অর্জুনের সেই ক্লৈব্য বা কাপুরুষতা দূর করে তাকে সাহস জুগিয়েছিলেন কৃষ্ণ। একইভাবে, জীবনের শেষ সময়ে মানুষ যখন মৃত্যুর অনিবার্যতায় ভয়ে ও দুঃখে কাতর হয়ে পড়ে, তখন তার মনকে শান্ত ও স্থির করতে গীতার শিক্ষা অমূল্য ভূমিকা পালন করে। এটি শোনার মাধ্যমে ব্যক্তির অবচেতন মন পরমাত্মার সান্নিধ্য অনুভব করে, যা তাকে পারলৌকিক যাত্রার আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে।
পরজন্মে প্রভাব ও সংস্কারের গুরুত্ব
হিন্দু দর্শনের বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর অন্তিম সময়ে মানুষের মন যে অবস্থায় থাকে, পরজন্মে সেই চিন্তাধারা বা সংস্কার বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। জীবনের শেষ মুহূর্তে মানুষ যদি ভগবানের নাম বা গীতার জ্ঞান শুনতে শুনতে দেহত্যাগ করে, তবে তা তার আত্মার পরবর্তী যাত্রাকে আরও শুদ্ধ ও শান্তিময় করে তোলে বলে গণ্য করা হয়। তাই মৃত্যুর মুখে থাকা প্রিয়জনকে শান্ত রাখার প্রচেষ্টায় গীতার বাণী কেবল একটি ধর্মীয় রীতি নয়, বরং এটি আত্মার মুক্তির জন্য এক পরম পাথেয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
