মেধাবীদের পাশে রাজ্য সরকার, আজ থেকেই চালু হলো বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের মেধাবী ও আর্থিকভাব অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে এক বড় পদক্ষেপ নিল নতুন রাজ্য সরকার। সোমবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে পুনরায় ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ চালুর ঘোষণা করেছেন। আজ থেকেই রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্প কার্যকর হচ্ছে। মেধা এবং আর্থিক অবস্থাকে মানদণ্ড করে এই স্কলারশিপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিক্ষার কোনো বিকল্প হয় না এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারণ সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে। এর আগে রাজ্যে এই প্রকল্প চালু থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বহু দুস্থ ও কৃতি শিক্ষার্থী নতুন করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
ধর্মের ভিত্তিতে ভাতা বন্ধ ও মেধার মূল্যায়ন
নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে এক বড় নীতিগত পরিবর্তন। এর আগে রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে বেশ কিছু ভাতা ও প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হতো। মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক বৈঠকে ধর্মের ভিত্তিতে দেওয়া এই সমস্ত ভাতা আগামী মাস থেকে পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ধর্মের নামে আর কোনো বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না। তার পরিবর্তে মেধা এবং প্রকৃত আর্থিক অভাবকেই সরকারি সহায়তার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপের পুনরুজ্জীবন সেই নীতিরই একটি বড় অংশ।
আবেদন প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
নতুন করে চালু হওয়া এই বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপের সুবিধা পেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সরাসরি রাজ্যের শিক্ষাদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। শিক্ষাদপ্তরের মাধ্যমেই এই স্কলারশিপের সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন মোড় আসতে চলেছে। ধর্মের ভিত্তিতে সুযোগ-সুবিধার অবসান ঘটিয়ে মেধা ও আর্থিক অবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় প্রকৃত যোগ্য ও অভাবী শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন। এটি একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে, অন্যদিকে তেমনই রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
