মেসির আগমনেই কি বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল? ভাইরাল পোস্টের আড়ালে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা

মেসির আগমনেই কি বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল? ভাইরাল পোস্টের আড়ালে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের মসনদে বসেছে বিজেপি। এই পালাবদলের আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিষয় নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি কলকাতায় পা রাখলেই নাকি বাংলায় সরকার পড়ে যায়। ২০১১ এবং ২০২৫—মেসির এই দুই সফরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে এই রাজনৈতিক সমীকরণ। তবে বাস্তব তথ্যের বিশ্লেষণ বলছে অন্য কথা।

ভ্রান্ত তথ্যের বেড়াজালে ২০১১ সালের ঘটনাপ্রবাহ

সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তত্ত্বে বলা হচ্ছে, ২০১১ সালে মেসি আসার ফলেই বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়েছিল। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মেসি যখন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলতে কলকাতায় আসেন, তার ঢের আগেই মে মাসে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটেছিল। অর্থাৎ, মেসি আসার সময় রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং মদন মিত্র ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী। ফলে বাম সরকারের পতনের পেছনে মেসির আগমনের তত্ত্বটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

২০২৫ সালের বিতর্ক এবং তৃণমূলের পরাজয়

২০১১ সালে মেসির সফর শাসকদলের জন্য বাড়তি পাওনা হলেও, ২০২৫ সালের সফরটি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত বছর ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয়বার কলকাতায় পা রেখেছিলেন মেসি। কিন্তু সল্টলেক স্টেডিয়ামে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ‘আতিথেয়তার আতিশয্য’ এবং মেসির সঙ্গে সেলফি তোলার হিড়িক ভালোভাবে নেয়নি সাধারণ মানুষ। মাত্র ২০ মিনিট অবস্থান করে মেসি মাঠ ছাড়লে জনরোষ তুঙ্গে ওঠে। হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেনা ফুটবলপ্রেমীদের সেই ক্ষোভ নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মেরুকরণ ও প্রকৃত প্রভাব

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১১ সালের পরিবর্তনের সঙ্গে মেসির আগমনের কোনো যোগসূত্র না থাকলেও, ২০২৫ সালের সফরে শাসকদলের আচরণের কারণে তৈরি হওয়া জনরোষ নির্বাচনে কিছুটা ভূমিকা পালন করেছে। তবে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে মেসির সফরকে ‘সরকার পতনের লক্ষণ’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। আদতে রাজনৈতিক পালাবদলের পেছনে সাংগঠনিক শক্তি এবং জনমতের ভূমিকা থাকলেও, বিশ্বসেরা ফুটবলারের সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *