‘ম্যাড ম্যান’ ট্রাম্পের মন পড়তে শান্তি আলোচনায় মনোবিজ্ঞানী বসাল ইরান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে এবং শান্তি আলোচনার টেবিলে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটকৌশল বুঝতে এক অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেছে ইরান। ট্রাম্পের রহস্যময় ও আক্রমণাত্মক আচরণ বিশ্লেষণ করতে নিজেদের কূটনৈতিক দলে জ্যেষ্ঠ মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করেছিল তেহরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের ওপর ভিত্তি করে ইরানের তৈরি করা নতুন বার্তা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
কী এই ‘ম্যাড ম্যান’ নীতি এবং ইরানের পাল্টা কৌশল
ইরানের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ম্যাড ম্যান থিওরি’ বা ‘উন্মাদ নীতি’ ব্যবহার করে আসছিলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রবর্তিত এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো, শত্রুপক্ষের মনে এই ভয়াবহ ধারণা তৈরি করা যে দেশের শীর্ষ নেতা অত্যন্ত অনমনীয় এবং তিনি যেকোনো মুহূর্তে পরমাণু হামলাসহ যেকোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ট্রাম্পের এমন লাগাতার পরমাণু হামলার হুমকি ও খামখেয়ালি আচরণে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও তুরস্কও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এই পরিস্থিতির কারণ ও গভীরতা বুঝতে গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ইরান তাদের শান্তি আলোচনা দলে দু’জন অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীকে যুক্ত করে।
বার্তায় বদল এবং মনস্তাত্ত্বিক সফলতা
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীরা ট্রাম্পের আচরণ এবং আমেরিকার পাঠানো বার্তাগুলো খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। তাঁদের সুপারিশ মেনে ইরান আলোচনার টেবিলে নিজেদের বক্তব্য এবং লিখিত নথির ভাষায় ব্যাপক পরিবর্তন আনে। ইরানি এক শীর্ষ কর্মকর্তা পুরো বিষয়টিকে একজন শক্তিশালী মানসিক রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের আচরণের মতো বলে ব্যাখ্যা করেছেন। এই কৌশলের ফলে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ায় অভাবনীয় ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ক্রমশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং যুদ্ধের দামামা পেরিয়ে দুই দেশ সমঝোতার পথে এগোতে থাকে।
আসন্ন শান্তি চুক্তি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ইরানের এই মনস্তাত্ত্বিক কূটনৈতিক সফলতার জেরে অবশেষে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে শান্তির পথে হাঁটতে সম্মত হয়েছে উভয় দেশ। এই সফল আলোচনার ধারাবাহিকতায় আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিকভাবে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কেটে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
