যুদ্ধ-সংকটে ভারতের মাস্টারস্ট্রোক! আমদানি রুখে দেশেই তৈরি হচ্ছে ২০০টি পেট্রো পণ্য – এবেলা

যুদ্ধ-সংকটে ভারতের মাস্টারস্ট্রোক! আমদানি রুখে দেশেই তৈরি হচ্ছে ২০০টি পেট্রো পণ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০০-র বেশি পেট্রো পণ্যের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পথে কেন্দ্র: সংকট রুখতে ডিপিআইআইটি-র জরুরি বৈঠক

পশ্চিম এশিয়ার (মধ্যপ্রাচ্য) ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের অস্থিরতা ভারতের অভ্যন্তরীণ শিল্পক্ষেত্রে বড়সড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে যাতে দেশের বিভিন্ন শিল্পে কাঁচামালের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে, তার জন্য আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সংকট রুখতে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থা ‘ডিপার্টমেন্ট ফর প্রমোশন অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেড’ (DPIIT) দেশের শীর্ষস্থানীয় পেট্রোকেমিক্যাল সংস্থাগুলির সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে। প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিদেশ থেকে আমদানি করা পিভিসি (PVC), পলিথিন, অ্যামোনিয়ার মতো প্রায় ২০০টিরও বেশি পেট্রো পণ্যের বিকল্প এবার ভারতেই তৈরি করার ব্লুপ্রিন্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে।

৫০০০ কোটি ডলারের আমদানি কমানোর লক্ষ্য

অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত প্রতি বছর প্রায় ৫,০০০ কোটি ডলার (৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি) খরচ করে বিদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ও রাসায়নিক কাঁচামাল আমদানি করে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে এই আমদানির ওপর সরাসরি আঘাত আসার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও গতি বাড়িয়ে এই ২০০টিরও বেশি পণ্যের দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করতে চাইছে কেন্দ্র, যাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

পুরোনো স্টক ফুরিয়ে এলে বড় সংকটের আশঙ্কা

অর্থনৈতিক ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, ভারতীয় সংস্থাগুলোর কাছে বর্তমানে যে পরিমাণ কাঁচামালের ব্যাকআপ বা পুরোনো স্টক রয়েছে, তা দিয়ে আর মাত্র কয়েক মাস উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব। যদি এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ না থামে এবং দেশীয় উৎপাদন আশানুরূপ স্তরে না পৌঁছায়, তবে সেই স্টক ফুরিয়ে এলে দেশের একাধিক প্রথম সারির শিল্পক্ষেত্রে বড়সড় উৎপাদন সংকট দেখা দেবে।

যেসব শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে:

  • FMCG (নিত্যব্যবহার্য পণ্য): শ্যাম্পু, সাবান, ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাদ্যের প্যাকেজিংয়ের জন্য প্লাস্টিক ও পেট্রো-রাসায়নিকের প্রয়োজন হয়। কাঁচামাল কমলে এই পণ্যগুলোর উৎপাদন কমবে এবং দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে।
  • অটোমোবাইল (গাড়ি শিল্প): আধুনিক গাড়ির বাম্পার, ড্যাশবোর্ডসহ ভেতরের বহু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও ফাইবার তৈরিতে উচ্চমানের প্লাস্টিক ও পলিমার লাগে, যা পেট্রোকেমিক্যাল থেকে আসে।
  • নির্মাণ শিল্প (Construction): বাড়িঘর ও পরিকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত পিভিসি পাইপ (PVC Pipes), বৈদ্যুতিক তারের কোটিং এবং প্লাস্টিক শিটের সাপ্লাই চেইন থমকে যেতে পারে।

এক ঝলকে

  • মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ভারতে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে দেশের সংস্থাগুলির সাথে বৈঠক করল কেন্দ্রীয় সংস্থা DPIIT।
  • পিভিসি, পলিথিন, অ্যামোনিয়ার মতো ২০০টিরও বেশি পণ্য যা প্রতি বছর ৫০০০ কোটি ডলার ব্যয়ে আমদানি করা হয়, তা ভারতেই তৈরির তোড়জোড় চলছে।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং পুরোনো স্টক ফুরিয়ে গেলে FMCG, গাড়ি ও নির্মাণ শিল্পে কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে।
  • আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ শিল্পকে সুরক্ষিত রাখাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *