সম্পর্কের বরফ গলাতে ভারতে মার্কো রুবিও! নজরে মোদী-জয়শঙ্কর বৈঠক ও কোয়াডের মেগা আসর – এবেলা

সম্পর্কের বরফ গলাতে ভারতে মার্কো রুবিও! নজরে মোদী-জয়শঙ্কর বৈঠক ও কোয়াডের মেগা আসর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ড্যামেজ কন্ট্রোলে ভারতে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও: নজরে মোদী-জয়শঙ্কর বৈঠক ও কোয়াড

ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন মেরামত বা ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর লক্ষ্য নিয়ে চারদিনের মেগা সফরে ভারতে এলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর। শনিবার সকালে কলকাতায় অবতরণের মধ্য দিয়ে এই হাইভোল্টেজ সফর শুরু করেছেন তিনি। কলকাতায় স্থানীয় কর্মসূচি শেষ করে আজ বিকেলেই তিনি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং দিল্লিতে আয়োজিত ‘কোয়াড’ (Quad) ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের মেগা বৈঠকে অংশ নেবেন রুবিও।

রুবিও-র চারদিনের ঠাসা কর্মসূচি

কূটনৈতিক সূচি অনুযায়ী, মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফরের রূপরেখা অত্যন্ত ঠাসা:

  • শনিবার (২৩ মে): সকাল ৭টায় কলকাতায় পৌঁছান। দিনভর স্থানীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বিকেলে দিল্লির বিমান ধরবেন এবং রাজধানীতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে দেখা করবেন।
  • রবিবার (২৪ মে): ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে দ্বিপাক্ষিক স্তরে দীর্ঘ বৈঠক করবেন। ওই দিনই মার্কিন দূতাবাসের বিশেষ অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি।
  • সোমবার (২৫ মে): ঐতিহাসিক তাজমহল (আগ্রা) এবং জয়পুর পরিদর্শনে যাবেন।
  • মঙ্গলবার (২৬ মে): সকালে পুনরায় দিল্লি ফিরে কোয়াড-এর মেগা বৈঠকে অংশ নেবেন।

ভারত সফর নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শুক্রবারই মার্কো রুবিও বলেন, “ভারতের সঙ্গে কাজ করার মতো প্রচুর ক্ষেত্র রয়েছে। ওরা আমাদের অত্যন্ত বড় সহযোগী ও অংশীদার।”

সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ড্যামেজ কন্ট্রোলের পটভূমি

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে কয়েকটি কারণে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল:

১. ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য: গত মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া সামরিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, তাঁর মধ্যস্থতার কারণেই যুদ্ধ এড়ানো গেছে। কিন্তু ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (সাউথ ব্লক) এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানায়, আমেরিকার কোনো ভূমিকা ছিল না, দুই দেশের নিজস্ব আলোচনার মাধ্যমেই উত্তেজনা কমেছিল।

২. অর্থনৈতিক ও ভিসা নীতি: ভারতের ওপর আমেরিকার শাস্তিমূলক ট্যারিফ বা শুল্ক চাপানো, ওয়াশিংটনের নতুন কঠোর অভিবাসন নীতি এবং এইচওয়ান-বি (H1B) ভিসার ফি বাড়ানোর মতো মার্কিন সিদ্ধান্ত দিল্লির অস্বস্তি বাড়িয়েছিল।

এই বরফ গলাতেই ৫ সপ্তাহ আগে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি ওয়াশিংটন সফরে যান। এরপর গত ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিটের এক ফোনালাপ হয়। রুবিও-র এই সফর সেই সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করারই চূড়ান্ত ধাপ।

জয়শঙ্কর-রুবিও বৈঠকের মূল এজেন্ডা

রবিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে মার্কিন বিদেশসচিবের বৈঠকে মূলত পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র অগ্রাধিকার পাবে:

  • বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: দুই দেশের মধ্যে শুল্ক জটিলতা কাটিয়ে বাণিজ্য বৃদ্ধি।
  • প্রযুক্তি ও শক্তি ক্ষেত্র: ‘ক্রিটিকাল টেকনোলজি’ বা সমালোচনামূলক প্রযুক্তি এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা।
  • পশ্চিম এশিয়া সংকট: মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশদ আলোচনা।
  • কৌশলগত অংশীদারিত্ব: ভারত-মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা তৈরি করা।

এক ঝলকে

  • ভারত-মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েন মেটাতে চারদিনের মেগা সফরে ভারতে এলেন ট্রাম্প সরকারের বিদেশসচিব মার্কো রুবিও।
  • শনিবার সকালে কলকাতায় নামার পর বিকেলে দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাথে দেখা করার সূচি রয়েছে তাঁর।
  • রবিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং আগামী মঙ্গলবার দিল্লিতে ‘কোয়াড’ বৈঠকে অংশ নেবেন রুবিও।
  • মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বাণিজ্য, এইচওয়ান-বি (H1B) ভিসা নীতি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *