যুবভারতীতে ‘মেসিকাণ্ড’ নিয়ে বড় পদক্ষেপ! দায়িত্ব নিয়েই কড়া তদন্তের নির্দেশ নিশীথ প্রামাণিকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব গ্রহণ করেই বড়সড় ঘোষণা করলেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ‘মেসিকাণ্ড’ সংক্রান্ত সমস্ত ফাইল তলব করেছেন মন্ত্রী। প্রয়োজনে এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতীতে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। প্রিয় তারকাকে চোখের সামনে দেখতে না পেয়ে দর্শকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্টেডিয়ামে ভাঙচুর থেকে শুরু করে চেয়ার-বোতল ছোঁড়ার মতো ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছিল, তৎকালীন প্রশাসনের গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই ভক্তদের এই হতাশাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। সেই ঘটনার রেশ টেনেই এবার সত্য উদ্ঘাটনে তৎপর হলেন বর্তমান মন্ত্রী।
তদন্তের আওতায় টিকিট বিক্রয়কারী সংস্থাও
মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনার ফাইল খতিয়ে দেখার পাশাপাশি টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা সংস্থার ভূমিকাও তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি বলেন, “মেসিকাণ্ড আমাদের প্রত্যেকের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ফাইল চেয়েছি, তা খতিয়ে দেখে বোর্ড মিটিং করা হবে। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।” সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
পূর্বতন সরকারের সমালোচনা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
পূর্বতন রাজ্য সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নিশীথ প্রামাণিক অভিযোগ করেন, বিগত শাসনামলে ক্রীড়া থেকে আইনশৃঙ্খলা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই অন্তর্ঘাত হয়েছে। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে তদন্তের পাশাপাশি সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের দুঃখ ঘোচাতেও উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে কলকাতায় আবারও বড় মাপের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর দপ্তরের।
এই তদন্তের মাধ্যমে যুবভারতীর ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা এবং ক্রীড়া প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই এখন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর মূল লক্ষ্য। এর ফলে আগামী দিনে রাজ্যে বড় মাপের ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার মান আরও উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
