যে নন্দনে ছিলেন ব্রাত্য, সেখানেই শেষ শ্রদ্ধায় শায়িত থাকবেন অনীক দত্ত! – এবেলা

যে নন্দনে ছিলেন ব্রাত্য, সেখানেই শেষ শ্রদ্ধায় শায়িত থাকবেন অনীক দত্ত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের রহস্যমৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য এবং শ্রদ্ধাজ্ঞাপন কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনার অবসান ঘটেছে। দীর্ঘ সময় ধরে যে সরকারি প্রেক্ষাগৃহ তথা নন্দন চত্বরে তিনি এবং তাঁর চলচ্চিত্র ব্রাত্য ছিল, সেখানেই শেষযাত্রায় শায়িত থাকতে চলেছে ‘অপরাজিত’ পরিচালকের মরদেহ। বৃহস্পতিবার রাতে অভিনেতা ও বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ এবং প্রয়াত পরিচালকের পরিবারের যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই অন্তিমযাত্রার সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ব্রাত্য নন্দনেই শেষ শ্রদ্ধা

জীবদ্দশায় তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে নন্দনে ব্রাত্য থেকেছেন অনীক দত্ত। তাঁর ছবি সরকারি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের অনুমতি পায়নি। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ নন্দনে রাখা হবে কি না, কিংবা সত্যজিৎ রায়ের বাড়ির সামনে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল নয়টায় পিস ওয়ার্ল্ড থেকে পরিচালকের দেহ প্রথমে নন্দনে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে এক ঘণ্টার জন্য মরদেহ শায়িত রাখার পর সকাল এগারোটায় দেহ পৌঁছাবে টলিগঞ্জের এনটিওয়ান স্টুডিওতে। দুপুর একটা পর্যন্ত সেখানে প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য। ওঁর প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি এবং মেয়ে ঐশী দত্তের ইচ্ছা অনুসারেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রহস্যমৃত্যুর তদন্তে গতি

চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া নামার পাশাপাশি অনীক দত্তের এই আকস্মিক প্রয়াণ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রহস্য। গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের পর ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও তীব্রতা খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবারই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফরেন্সিক দল। তদন্তের স্বার্থে বহুতলের চারতলা থেকে পাশবালিশের ডামি ফেলে পরিস্থিতি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

পুলিশি তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে একটি ডায়েরি ও বইয়ের ভেতর খামে ভরা সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যা পরিচালক তাঁর মেয়ে ঐশীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন। চিঠিতে অবশ্য নিজের মৃত্যুর জন্য তিনি কাউকে দায়ী করেননি এবং লিখেছেন, “এই ঘটনার জন্য কেউ দায়ী নয়।” নন্দনের মতো ঐতিহ্যবাহী সরকারি স্তরে তাঁর পূর্বতন ‘নিষেধাজ্ঞা’ এবং বর্তমানের এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনাটি কলকাতার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহলে গভীর প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্তের পরিধি আরও জোরালো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *