রথের রশি ছুঁলেই ধুয়ে যায় জীবনের সব পাপ! জানেন এর নেপথ্যের আসল রহস্য? – এবেলা

রথের রশি ছুঁলেই ধুয়ে যায় জীবনের সব পাপ! জানেন এর নেপথ্যের আসল রহস্য? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ওড়িশার পুরীতে এখন সাজ সাজ রব, জোরকদমে চলছে রথযাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি। যুগ যুগ ধরে সনাতন ধর্মে বিশ্বাস, জগন্নাথের রথের রশিতে একবার টান দিলেই নাকি জীবনের সমস্ত পাপ ধুয়ে যায়! কিন্তু কেন রথের দড়ির এত মাহাত্ম্য? শুধুই কি ভগবানের রথ বলে, নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে আরও গভীর কোনও ইতিহাস?

রথ আসলে মানবদেহের প্রতীক হিন্দু শাস্ত্র মতে, রথ নিছকই কোনও সাধারণ বাহন নয়, এটি স্বয়ং মানবদেহের প্রতীক। রথের ঘোড়াগুলোকে আমাদের ‘পঞ্চ ইন্দ্রিয়’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আর সেই ঘোড়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার দড়ি বা রশিটি হলো আমাদের ‘মন’।

রথের দড়ি টানার অর্থ হলো নিজের অহংকার ত্যাগ করে মন, শরীর ও অনুভূতিকে সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের চরণে সমর্পণ করা। এর মাধ্যমেই ভক্ত ও ভগবানের মধ্যে সরাসরি আত্মিক যোগসূত্র তৈরি হয়।

কী বলছে পুরাণ?

  • অশ্বমেধ যজ্ঞের পুণ্য: স্কন্দপুরাণ ও বামদেব সংহিতা অনুযায়ী, রথের দড়ি টানলে যে পুণ্য লাভ হয়, তা অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান বলে বিবেচিত হয়।
  • পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি: ইন্দ্রনীলময় পুরাণ ও সূতসংহিতার উল্লেখ অনুযায়ী, রথে উপবিষ্ট বামনরূপী জগন্নাথদেবকে দর্শন করে তাঁর রশি সামান্য স্পর্শ করলেও ভক্ত পুনর্জন্মের চক্র থেকে চিরতরে মুক্তি পান। কপিল সংহিতাও বলছে, গুণ্ডিচা যাত্রায় জগন্নাথ দর্শন মানুষের সব পাপ মোচন করে।

তিন রথের অজানা তথ্য পুরীর রথযাত্রায় তিনটি রথের রয়েছে আলাদা আলাদা নাম ও বৈশিষ্ট্য:

  • তালধ্বজ: সবার আগে যাত্রা শুরু করে দাদা বলভদ্র বা বলরামের রথ। ৪৪ ফুট উচ্চতার এই রথটি মোট ৭৬৩টি কাঠের টুকরো দিয়ে নিপুণভাবে তৈরি করা হয়।
  • দর্পদলন (পদ্মধ্বজ): এরপর আসে বোন সুভদ্রার রথ, যার উচ্চতা ৪৩ ফুট। এর পতাকায় পদ্ম চিহ্ন থাকে বলে একে ‘পদ্মধ্বজ’-ও বলা হয়ে থাকে।
  • নন্দীঘোষ: সবশেষে আসে স্বয়ং জগন্নাথদেবের সুবিশাল রথ ‘নন্দীঘোষ’। এই রথের উচ্চতা সবচেয়ে বেশি, ৪৫ ফুট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *