রাজনীতি থেকে পুরাণ! এবার বাংলার দুর্গোৎসবে কোন পরিবর্তনের ছোঁয়া? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যুগে যুগে নানা রূপে মর্তে পূজিতা হন দুর্গতিনাশিনী। কখনও ধর্মীয় উৎসবের প্রতীক তো কখনও বিপ্লবের নীরব শক্তিদায়িনী। ব্রিটিশ আমলে সরাসরি ‘রাষ্ট্রবাদ’ শব্দটি না জুড়লেও, এর উদ্দেশ্য সবসময়ই জড়িয়েছিল জাতীয় চেতনার সঙ্গে। ‘সৃষ্টি-স্থিতি বিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনি’—এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়েই স্বাধীনতা সংগ্রামীরা শক্তি আরাধনা করতেন। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যেন সেই সনাতনী ঐতিহ্য এবং রাষ্ট্রবাদের ভাবনাগুলোই নতুন করে জুড়ে যাচ্ছে দুর্গাপুজোর সঙ্গে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী ও মহারাজরা ধর্মীয় আচার-রীতি মেনে পুজো আয়োজনের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। আর সেই ট্রেন্ডেই হাওয়া লাগিয়ে পুজোশিল্পীরা এবার থিম ভাবনায় আনছেন এক অভিনব চমক। সনাতন সংস্কৃতি, পুরাণ, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রবাদের ছোঁয়ায় যে পুজোর সাজসজ্জা অনন্য হয়ে উঠতে পারে, তা এখন শহরের মণ্ডপগুলির প্রস্তুতিতেই স্পষ্ট।
পুরাণ থেকে মহাকাব্য এবং বিপ্লব থেকে উৎসব—সর্বত্রই বিরাজমান দেবীর রূপ। অতীতে রাবণের সঙ্গে যুদ্ধের আগে শ্রী রামচন্দ্র অকালবোধন করেছিলেন, আবার ১৯৪০ সালে প্রেসিডেন্সি জেলের অন্তরালে খোদ সুভাষচন্দ্র বসু দুর্গাপুজো শুরু করে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে মানসিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। বিপ্লবী সংগঠন অনুশীলন সমিতির পুজোয় প্রতিমার পরিবর্তে অস্ত্রশস্ত্র সাজিয়ে বাহুবলধারিণী দেবীর উপাসনা হতো। কালের নিয়মে দেবীর আরাধনার পটপরিবর্তন ঘটলেও এই বঙ্গে ঘুরেফিরে আসছে সেই অতীত আমলের সুবাস। গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীন থেকে তালতলা বা সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার—সবখানেই এবার থিম ভাবনায় প্রাধান্য পাচ্ছে ‘বন্দে মাতরম’, ‘সনাতনী চেতনা’ ও রামায়ণের বিভিন্ন অধ্যায়। থিমের আধুনিকতার সঙ্গে সনাতনী ঐতিহ্যের এই অভিনব মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকতে চলেছে এবারের বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ দুর্গোৎসব।
