রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে জাতীয় শিক্ষানীতিই ভরসা, স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সোমবার রাজ্যের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কৃত করার একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, রাজ্যের ৯০ শতাংশ পড়ুয়াই যে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তাকে আরও আধুনিক ও উন্নত করতে জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে। এই নতুন শিক্ষানীতির ওপর ভর করেই আগামী দিনে রাজ্যের শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়ন ঘটবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
এ দিনের অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, সিবিএসই এবং আইসিএসই বোর্ডের কৃতি ও মেধাবী পড়ুয়াদের রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত ও সংবর্ধিত করা হয়। যুবসমাজকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামোকে বিশ্বমানের করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
শিক্ষার আধুনিকীকরণ ও নতুন দিশা
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি অনুসরণের এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রথাগত মুখস্থ বিদ্যার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা, সৃজনশীলতা এবং ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া সম্ভব হবে এই নীতির মাধ্যমে। এর ফলে সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা সর্বভারতীয় স্তরের যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সিবিএসই বা আইসিএসই বোর্ডের পড়ুয়াদের সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারবে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও কর্মসংস্থান
প্রাথমিক স্তরে পরিকাঠামোগত কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও, জাতীয় শিক্ষানীতির সঠিক রূপায়ণ রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে। এর ফলে সরকারি স্কুল ও কলেজগুলোর পঠনপাঠনের মান যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই ছাত্রছাত্রীদের ড্রপ-আউট বা স্কুলছুটের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। দীর্ঘমেয়াদে এই শিক্ষানীতি রাজ্যের বেকারত্ব দূরীকরণে এবং আধুনিক কর্মসংস্থানের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
