রাতের অন্ধকারেই ফিসফাস? লালবাজারের জালে বন্দিদের গোপন ছক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: লালবাজারের সেন্ট্রাল লকআপের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে আর কোনো ষড়যন্ত্র বা বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। রাতের অন্ধকারে বন্দিরা কী কথা বলছে বা কীসের পরিকল্পনা করছে, তা এবার সোজাসুজি চলে আসবে পুলিশ কর্তাদের নজরে ও কানে। লালবাজারের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলতে এবার সেন্ট্রাল লকআপে বসতে চলেছে ৫৯টি অত্যন্ত উন্নতমানের সিসিটিভি ক্যামেরা।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও এনফোর্সমেন্ট শাখার হাতে ধৃত হাই-প্রোফাইল অভিযুক্তদের রাখা হয় এই সেন্ট্রাল লকআপে। দিনের বেলা নজরদারি চালানো সহজ হলেও রাতের অন্ধকারে বন্দিদের গতিবিধি বোঝা কঠিন হয়ে উঠত। সেই সমস্যার সমাধানেই কলকাতা পুলিশ খরচ করতে চলেছে প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা।
নতুন প্রযুক্তির বিশেষত্ব:
- ক্যামেরার ধরণ: লকআপ ও করিডরে বসানো হবে ৫৪টি ‘ডোম ক্যামেরা’ এবং ৫টি ‘বুলেট ক্যামেরা’।
- দূরত্ব ও নাইট ভিশন: ডোম ক্যামেরা ৫০ মিটার এবং বুলেট ক্যামেরা ৬০ মিটার দূরের পরিষ্কার দৃশ্য ও ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম। ঘন অন্ধকারেও কাজ করবে এর ইনফ্রারেড প্রযুক্তি।
- শব্দ ট্র্যাকিং (Audio Recording): ক্যামেরায় সচল থাকবে অডিও সিস্টেম। ফলে বন্দিদের নিজেদের মধ্যে ফিসফাস, চিৎকার কিংবা যেকোনো ধরনের শব্দ স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে রেকর্ডিংয়ে।
পুলিশ সূত্রের খবর, সিসিটিভি ক্যামেরা কেনার জন্য ৮ লাখ টাকা এবং বাকি প্রায় ২৭ লাখ টাকা মনিটর, কেবল ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক সরঞ্জামের পেছনে খরচ হচ্ছে। লালবাজার কর্তারা জানিয়েছেন, লকআপে বন্দিদের মধ্যে হাতাহাতি, পালানোর চক্রান্ত বা কোনো অপরাধের ছক রুখতেই এই সিদ্ধান্ত। পুরো ব্যবস্থার ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ মনিটরিং সেল।
