রামমন্দিরের প্রণামী চুরির টাকায় বিলাসবহুল হোটেল ব্যবসা! নজরে ২৫ জন – এবেলা

রামমন্দিরের প্রণামী চুরির টাকায় বিলাসবহুল হোটেল ব্যবসা! নজরে ২৫ জন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামী চুরির তদন্তে নেমে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে মেলালেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) গোয়েন্দারা। প্রকাশ্যে এল এক বিস্ফোরক তথ্য। অভিযোগ, মন্দিরের প্রণামীর টাকা আত্মসাৎ করে হরিদ্বার, ঋষিকেশ এবং মানালির মতো বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রে রমরমিয়ে হোটেল ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন কয়েকজন সন্দেহভাজন! গত দু’বছরে বিপুল পরিমাণ টাকার এই হোটেল সাম্রাজ্য তাঁরা কীভাবে গড়ে তুললেন, তা এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, প্রণামী চুরির সঙ্গে জড়িতদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। সেই তদন্ত এগোতেই উঠে এসেছে আরও একাধিক কেলেঙ্কারি:

  • ৪০% কমিশন সিন্ডিকেট: অভিযোগ, রামমন্দির নির্মাণ কাজের সময় ঠিকাদারদের থেকে সামগ্রী সরবরাহের নামে গড়ে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন খেয়েছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
  • জমিতে ১৭ গুণ বেশি দাম: মন্দির সংলগ্ন এলাকার জমি কেনার ক্ষেত্রেও ট্রাস্টের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৭ গুণ বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে জমি বিক্রেতাদের।

১‌৫০ জনকে নজরবন্দি, টার্গেটে ২৫

এই বিপুল দুর্নীতির পাকে জড়িয়ে আপাতত ১৫০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তাদের অযোধ্যার বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই ১৫০ জনের মধ্যে থেকে বাছাই করে ২৫ জন মূল সন্দেহভাজনের একটি আলাদা তালিকা তৈরি করেছেন তদন্তকারীরা, যাদের এবার ম্যারাথন জেরা করা হবে।

ইতিমধ্যেই উদ্ধার ২ কোটি নগদ

প্রণামীর নগদ টাকা গোনা এবং দেখভালের দায়িত্বে থাকা ৫ জন অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি টাকারও বেশি নগদ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রামনবমী, দীপাবলি বা দোলের মতো বড় উৎসবে লাখ লাখ ভক্তের ঢল নামলেও খাতায়-কলমে প্রণামীর হিসাব ছিল নামমাত্র। এমনকি দান করা সোনা-রুপোর গয়না নিয়েও ব্যাপক কারচুপি হয়েছে।

সূত্রের খবর, এই তদন্তের জল বহুদূর গড়াতে পারে। আর্থিক তছরূপের প্রমাণ মিললে মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ‘রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ ভেঙে দেওয়ার সুপারিশও করতে পারে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *