রাস্তাতেই জরিমানা মেটানো বাধ্যতামূলক নয়! ট্র্যাফিক পুলিশের ‘কোর্ট চালান’ নিয়ে বড় নিয়ম জানুন – এবেলা

রাস্তাতেই জরিমানা মেটানো বাধ্যতামূলক নয়! ট্র্যাফিক পুলিশের ‘কোর্ট চালান’ নিয়ে বড় নিয়ম জানুন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: ট্র্যাফিক পুলিশের হাতে ধরা পড়লেই কি সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা মিটিয়ে ফেলা বাধ্যতামূলক? বেশিরভাগ চালকেরই ধারণা, জরিমানা দিলেই ঝঞ্ঝাট মুক্ত। কিন্তু সব ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না। কিছু অপরাধের ধরন এতই গুরুতর যে, তা ঘটনাস্থলে মিটিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা পুলিশের নেই। এমন ক্ষেত্রে পুলিশ সরাসরি মামলাটি পাঠায় আদালতে। একেই বলা হয় ‘কোর্ট চালান’

চালকদের সচেতন করতে এই বিষয়ে বিস্তারিত নিয়মাবলি প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ট্র্যাফিক চালানের প্রকারভেদ:

১. আপসযোগ্য চালান (Compounding Challan): সাধারণ ট্র্যাফিক আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে চালক নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে বিষয়টি সেখানেই মিটিয়ে নিতে পারেন।

২. কোর্ট চালান (Court Challan): গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা মামলাটি নথিভুক্ত করেন ঠিকই, কিন্তু এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয় ট্র্যাফিক আদালতে। বিচারকই ঠিক করেন শাস্তির পরিমাণ।

কোন কোন অপরাধে সরাসরি আদালতে যেতে হয়?

ঘটনাচক্রে এই ধরনের অপরাধগুলোর জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে জরিমানা আদায় না করে চালককে আদালতে তলব করতে পারে:

  • মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো।
  • বিপজ্জনক বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো।
  • ওয়ান-ওয়ে রাস্তায় ভুল দিকে গাড়ি চালানো।
  • ট্র্যাফিক সাইন (যেমন স্টপ সাইন) উপেক্ষা করা।
  • অনিরাপদভাবে ওভারটেকিং।
  • অপ্রাপ্তবয়স্কর হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং তুলে দেওয়া।
  • ফুটপাত বা সাইকেল ট্র্যাকে গাড়ি চালানো।

আদালতের চালান পেলে করণীয়:

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের নোটিস কখনওই উপেক্ষা করা উচিত নয়। এতে চালকের জন্য আইনি জটিলতা বাড়তে পারে। নোটিস পাওয়ার পর:

  • এতে দেওয়া আদালতের নাম ও শুনানির তারিখ ভালো করে দেখে নিন।
  • উল্লিখিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন।
  • প্রয়োজন হলে আইনি পরামর্শ নিন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

সম্প্রতি তেলঙ্গানা হাইকোর্ট সহ বিভিন্ন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ট্র্যাফিক পুলিশ কোনো চালককে ঘটনাস্থলেই বকেয়া চালান পরিশোধের জন্য জোর করতে পারে না। পুলিশের অবশ্যই আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। তাই নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সাধারণ চালান এবং কোর্ট চালানের পার্থক্য বুঝতে পারলে অযথা বিভ্রান্তি ও আইনি হয়রানি থেকে বাঁচা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *