রুপোর আমদানিতে সরকারি রাশ, ভারতের বাজারে কি তবে আরও মহার্ঘ্য হবে সাদা ধাতু? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সোনার পর এবার রুপো আমদানির ওপরেও কঠোর নিয়ম জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। এত দিন পর্যন্ত বিদেশ থেকে রুপো আমদানি ‘অবাধ’ তালিকার অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, নতুন নিয়মে সেটিকে ‘নিয়ন্ত্রিত’ তালিকার অধীনে আনা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ রুপার বাট, অপরিশোধিত রুপো এবং গুঁড়ো রুপো আমদানির জন্য সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে। সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর থেকেই ঘরোয়া বাজারে রুপোর দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জোগানে ঘাটতি ও দামবৃদ্ধির জোড়া ফালা
ভারত নিজের চাহিদামতো পর্যাপ্ত রুপো উৎপাদন করতে পারে না, ফলে দেশের বাজারকে সম্পূর্ণভাবে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বা অনুমোদনের নিয়ম চালু হওয়ার কারণে আমদানিকারকদের পক্ষে চটজলদি পণ্য আনা কঠিন হবে। এর ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগানে বড় ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং তেলের চড়া দামের কারণে এমনিতেই আমদানি-রফতানি খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। তার ওপর এই নতুন আইনি কড়াকড়ি রুপোর সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও চাপের মুখে ফেলবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে খুচরো বাজারে।
শিল্পক্ষেত্রে প্রভাব ও আমজনতার পকেটে টান
আধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তনের যুগে রুপো এখন আর শুধুমাত্র অলঙ্কার বা পূজাপাঠের সামগ্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল এবং বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তিতে রুপো এখন একটি অপরিহার্য কৌশলগত কাঁচামাল। ফলে এই ধাতুর দাম বাড়লে একাধিক শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বাড়বে। ভারতের প্রধান কমোডিটি এক্সচেঞ্জগুলিতে (এমসিএক্স) ইতিমধ্যেই এই বাড়তি খরচের প্রতিফলন দেখা যেতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যদি রুপোর দাম স্থিতিশীলও থাকে, তাহলেও শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ জোগানের ঘাটতি এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণের কারণে ভারতীয় ক্রেতাদের এই সাদা ধাতু কিনতে অনেক বেশি গাঁটের কড়ি খরচ করতে হবে।
