লোধা আইনের প্যাঁচে পদ খোয়াচ্ছেন মদন ঘোষ, সিএবিতে এবার ভোটের দামামা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লোধা কমিটির বয়সসীমা সংক্রান্ত নিয়ম অমান্য করে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)-এর যুগ্মসচিব পদে বহাল থাকা মদন ঘোষকে অবশেষে সরতে হচ্ছে। গত ২১ মে তাঁর বয়স ৭০ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় লোধা আইন অনুযায়ী তিনি ওই পদের জন্য অযোগ্য বা ‘ডিসকোয়ালিফাইড’ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় ক্রিকেট মহলের তীব্র ক্ষোভ ও চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা এই বর্ষীয়ান কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সিএবি-র অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে স্পেশাল জেনারেল মিটিং (এসজিএম)-এর দিনক্ষণ ও স্থান নির্ধারণ করা হবে।
আইন অমান্যের বিতর্ক ও বিলম্বিত সিদ্ধান্ত
এর আগে লোধা কমিটির নিয়মকে অমান্য করে নিজের পদে অনড় থাকার দম্ভ প্রকাশ করেছিলেন মদন ঘোষ। বয়স ৭০ পার হলে ক্রিকেট প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার নিয়ম নিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে পালটা চ্যালেঞ্জও ছুড়েছিলেন। তবে সোমবার রাতে সিএবি-র অপর যুগ্মসচিব বাবলু কোলের পাঠানো এক চিঠিতে বর্তমান যুগ্মসচিবকে ‘ডিসকোয়ালিফাইড’ হিসেবে উল্লেখ করায় মদন ঘোষের বিদায় নিশ্চিত হয়। ময়দান সংশ্লিষ্টদের মনে প্রশ্ন উঠেছে, লোধা আইনের তোয়াক্কা না করে কেন তাঁকে বাড়তি এক মাস এই পদে বসিয়ে রাখা হলো, যেখানে অতীতে বিশ্বরূপ দে বা সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো কর্তাদের ক্ষেত্রে সিএবি কোনো কালক্ষেপ করেনি।
আসন্ন নির্বাচন ও সম্ভাব্য প্রভাব
মদন ঘোষের এই বাধ্যতামূলক অপসারণের ফলে সিএবি-র ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে চলেছে। নতুন যুগ্মসচিব নির্বাচনের জন্য সিএবি-কে এখন বিশেষ সাধারণ সভা ও নির্বাচনের পথেই হাঁটতে হবে। বিগত কয়েক বছরের মতো এবার আর ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ কোনো কর্মকর্তা মনোনীত হওয়ার সুযোগ থাকছে না। ক্রিকেট মহলের মতে, আসন্ন এই নির্বাচনে সিএবি-র বর্তমান শাসক গোষ্ঠী তাদের প্রার্থী দিলে বিরোধী পক্ষ থেকেও নিশ্চিতভাবে প্রার্থী দাঁড় করানো হবে, যার ফলে সিএবি-র অন্দরে একটি তীব্র নির্বাচনী লড়াইয়ের দামামা বেজে উঠেছে।
