শিক্ষা দফতরে বড় রদবদল, পদত্যাগ করলেন এসএসসি চেয়ারম্যান ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই এবার শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বড়সড় ভাঙন শুরু হয়েছে। গত সরকারের আমলে নিযুক্ত হওয়া স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় মঙ্গলবার তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। নবগঠিত সরকারের কঠোর অবস্থান এবং প্রশাসনিক খোলনলচে বদলে ফেলার বার্তার মাঝেই এই ইস্তফা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি প্রশাসনিক বৈঠকে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, যাঁদের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে অথচ বিশেষ সুবিধায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের আর দায়িত্বে রাখা হবে না। মূলত তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং প্রশাসনে গতি আনতেই এই সিদ্ধান্ত। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশের পর থেকেই নবান্ন থেকে শুরু করে বিকাশ ভবন— সর্বত্রই কর্মকর্তাদের মধ্যে পদত্যাগের হিড়িক লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্বচ্ছতা ফেরানোর লক্ষ্যে নতুন সরকারের পদক্ষেপ
গত সরকারের আমলে শিক্ষা দফতরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল ছিল রাজ্য রাজনীতি। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু করে পর্ষদ ও কমিশনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে জেল হেফাজতে যেতে হয়েছে। সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতেই ২০২২ সালে সিদ্ধার্থ মজুমদারকে এসএসসি-র চেয়ারম্যান এবং রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়কে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি পদে বসানো হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার পুরনো পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে নতুনভাবে সাজাতে চাইছে।
সিদ্ধার্থ মজুমদারের চাকরির মেয়াদ গত জানুয়ারিতে শেষ হলেও আগের সরকার তা ছয় মাসের জন্য বৃদ্ধি করেছিল। অন্যদিকে, রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ও দুর্নীতির আবহে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। নতুন সরকারের ‘ক্লিন ইমেজ’ তৈরির পরিকল্পনায় এই পুরনো আধিকারিকদের সরে যাওয়া ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা।
প্রশাসনের সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শিক্ষা দফতরের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদের শূন্যতা দ্রুত পূরণের ইঙ্গিত মিলেছে। সরকারের লক্ষ্য হলো অভিজ্ঞ কিন্তু স্বচ্ছ ভাবমূর্তির আধিকারিকদের নিয়ে আসা, যাতে আইনি জটিলতায় থমকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত শুরু করা যায়। আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে এই কর্মসংস্থান ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধে আরও বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধুমাত্র শিক্ষা দফতরই নয়, নবান্নের অন্যান্য দফতরেও যে সমস্ত অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকরা কাজ করছেন, তাঁদের সরিয়ে নতুন রক্ত সঞ্চালনের প্রক্রিয়াটি এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
