শিল্পপতি থেকে সফল রাজনীতিক: টুটু বসুর বর্ণময় জীবনের রূপকথা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার ক্রীড়া জগত এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব টুটু বসুর জীবনাবসান এক বর্ণাঢ্য যুগের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। তিনি কেবল একজন সফল ব্যবসায়ীই ছিলেন না, বরং সংবাদপত্রের মালিক এবং ক্রীড়া প্রশাসক হিসেবেও নিজের অসামান্য দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই ব্যক্তিত্ব দীর্ঘ সময় ধরে ময়দানি রাজনীতির পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
শিল্পপতি থেকে রাজনীতির আঙিনায়
টুটু বসু ছিলেন কলকাতার একজন অন্যতম সফল শিল্পপতি। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি রাজনীতির অন্দরেও ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। এক সময় পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে তাঁর গুরুত্ব কমেনি। ২০০৫ সালে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ মনোনীত করেন। শিল্প ও রাজনীতির সেতুবন্ধন হিসেবে তিনি দীর্ঘকাল কাজ করে গেছেন।
ময়দানি বিপ্লব ও মোহনবাগান রত্ন
ক্রীড়া প্রশাসক হিসেবে টুটু বসুর অবদান অবিস্মরণীয়। বিশেষ করে ফুটবল ক্লাব মোহনবাগানের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর সময় তিনি অসংখ্য যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর আমলেই প্রবর্তিত হয়েছিল সম্মানজনক ‘মোহনবাগান রত্ন’ পুরস্কার। গত বছর খোদ তাঁর হাতেই এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে হুইল চেয়ারে বসেই তিনি তাঁর প্রাণের ক্লাব থেকে জীবনের অন্যতম সেরা স্বীকৃতি গ্রহণ করেন।
টুটু বসুর প্রয়াণে বাংলার ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর চলে যাওয়া কেবল একটি ক্লাবের ক্ষতি নয়, বরং বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির সাথে যুক্ত একটি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের নীরব হয়ে যাওয়া। আগামী দিনে তাঁর প্রবর্তিত প্রশাসনিক নীতি এবং ক্রীড়া ভাবনায় তাঁর অভাব অনুভূত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
