শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগরদের যোগ্যতা নিয়ে আপস নয়, ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি মামলায় বার্তা সুপ্রিম কোর্টের – এবেলা

শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগরদের যোগ্যতা নিয়ে আপস নয়, ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি মামলায় বার্তা সুপ্রিম কোর্টের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বহুল চর্চিত ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলাটি এবার আইনি লড়াইয়ের সর্বোচ্চ মঞ্চে পৌঁছাল। সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই হাইপ্রোফাইল মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় জড়িত সমস্ত পক্ষকে নোটিস ইস্যু বা আইনি সমন জারি করেছে। আগামী আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে চাকরিপ্রাপকদের জন্য সাময়িক স্বস্তির বিষয় হল, সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই মুহূর্তে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের ওপর কোনও ধরনের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেনি। ফলে কর্মরত শিক্ষকরা আপতত আইনি সুরক্ষায় থেকে নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

যোগ্যতা নিয়ে কড়া বার্তা শীর্ষ আদালতের

মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে। শিক্ষকতার মতো পবিত্র পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাদারী প্রশিক্ষণ নিয়ে কোনও রকম আপস করা চলে না উল্লেখ করে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত জানান, যাঁরা ছোট ছোট শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন, তাঁদের উপযুক্ত যোগ্যতা এবং সঠিক প্রশিক্ষণ আছে কিনা, তা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে। আদালতের মূল লক্ষ্য এটাই দেখা যে, আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ যাঁদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে, তাঁরা প্রকৃত অর্থেই সেই পদের যোগ্য কি না। আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে যখন সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে, তখন সমস্ত পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর শিক্ষকদের যোগ্যতার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

মামলার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। সেই সময়ে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও বেআইনি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলার শুনানির পর কলকাতা হাইকোর্টের তত্কালীন সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় একলপ্তে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে চাকরিহারা শিক্ষকরা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলে, বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের সেই চাকরি বাতিলের নির্দেশটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় এবং শিক্ষকদের চাকরিতে পুনর্বহাল করে।

হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়া হয়। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি গ্রহণ করায় প্রাথমিক শিক্ষা ও নিয়োগ দুর্নীতির এই জটিল আইনি লড়াইয়ে এক নতুন অধ্যায় শুরু হল। আগামী আগস্টে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের ভাগ্য এবং রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *