শুধু মোদী নন, কাঁপছে বিশ্ব! কোথাও গাড়ি বন্ধ, কোথাও এসিতে তালা—জ্বালানি বাঁচাতে মরিয়া ৪০ দেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসা জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতসহ পৃথিবীর অন্তত ৪০টি দেশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক থাকলেও বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট অত্যন্ত জটিল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এর তথ্য অনুযায়ী, অনেক দেশই এখন কেবল আহ্বানে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা আইন করে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং এসির ব্যবহারে কঠোর বিধিমালা আরোপ করছে।
বিশ্বজুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ ও রেশনিং
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, রাশিয়ার-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার ভয় পাচ্ছে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। ফলে অনেক দেশই এখন ‘এনার্জি রেশনিং’ বা জ্বালানি বণ্টনে নিয়ন্ত্রণ আনছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো সপ্তাহে চার দিন অফিস এবং বাধ্যতামূলক ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করেছে। শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি নিতে কিউআর কোড পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং স্কুলগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় সরকারি স্তরে জোর বিজোড় (Odd-Even) পদ্ধতিতে গাড়ি চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় অফিসের এসির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমার (২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) মধ্যে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের মতো আধুনিক রাষ্ট্রেও এসির বদলে ফ্যান ব্যবহারের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এমনকি নেপাল ও মালদ্বীপের মতো দেশগুলো সবার কাছে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দিতে সিলিন্ডার অর্ধেক ভর্তি করে সরবরাহ করার মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতের সতর্কতা ও আগামীর প্রভাব
ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮৫ শতাংশই আমদানি করে। বর্তমানে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০-১৫০ ডলারে পৌঁছে গেলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান মূলত সেই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকট কেবল যাতায়াত ভাড়ার ওপর প্রভাব ফেলে না; এটি সরাসরি খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, বিমান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বব্যাপী এই ‘নিও-নরমাল’ বা নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে কেবল জ্বালানি কেনাই নয়, বরং তা সাশ্রয় করাই হবে দেশগুলোর প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা না কমলে ভবিষ্যতে ভারতকেও হয়তো অন্যান্য দেশের মতো কঠোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী আইনের পথে হাঁটতে হতে পারে।
