সংকটে পাকিস্তান: ইরান-আমেরিকা বিরোধের জেরে কিউই দেশ থেকে বিতাড়িত হাজারো শিয়া শ্রমিক!

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হাজার হাজার পাকিস্তানি শিয়া কর্মীকে গণহারে বহিষ্কারের ঘটনায় ইসলামাবাদ ও আবুধাবির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার দ্বন্দ্বে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং তেহরানের প্রতি নমনীয় অবস্থান আবুধাবিকে ক্ষুব্ধ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকগণ। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হওয়া ইরানি হামলার কড়া নিন্দা জানাতে পাকিস্তানের ব্যর্থতা এই বহিষ্কার প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপড়েন
রাজনৈতিক বৈরিতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে পাকিস্তানের নড়বড়ে অর্থনীতির ওপর। শুধু কর্মী ছাঁটাই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি পাকিস্তানকে দেওয়া ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ ফেরত চেয়েছে, যা দেশটির মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ২০ শতাংশ। প্রায় ২০ লক্ষ পাকিস্তানি প্রবাসীকে কেন্দ্র করে বছরে যে ৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসত, এই গণ-বহিষ্কারের ফলে সেই আয়ের উৎস এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
অনিশ্চয়তায় হাজারো শ্রমিকের ভবিষ্যৎ
ভুক্তভোগী শিয়া কর্মীদের অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ ছাড়াই তাদের আটক করে জরুরি ট্রাভেল ডকুমেন্টের মাধ্যমে দেশছাড়া করা হয়েছে। পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের শিয়া অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে গত কয়েক সপ্তাহে কয়েক হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে ফিরে এসেছেন। একটি শিয়া ধর্মীয় সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার পরিবার বর্তমানে এই সংকটের শিকার। যদিও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে গণ-বহিষ্কারের বিষয়টি অস্বীকার করে একে সাধারণ আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে দাবি করা হয়েছে, তবে বিশ্লেষকরা একে ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণের ফলাফল হিসেবেই দেখছেন।
এক ঝলকে
- ইরানের প্রতি পাকিস্তানের নমনীয় নীতির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হাজার হাজার শিয়া কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
- সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের কাছে তাদের ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ফেরত চেয়েছে।
- প্রায় ৫ হাজার শিয়া পরিবার এবং কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে পাকিস্তানে ফিরে এসেছেন।
- রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের পতনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
