সংসদে রাতারাতি বাংলার বৃহত্তম শক্তি, দলনেতা ঘোষণা করে পোস্ট মুছল প্রায় অপরিচিত এনসিপিআই! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের নাটকীয় পদক্ষেপে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হঠাৎই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যে রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বের কথা রাজ্যের আমজনতার সিংহভাগই জানতেন না, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠকের পর সেই দলই এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় চমক। এই আবহে নতুন ফেসবুক পেজ খুলে এনসিপিআই দাবি করেছে, সংসদীয় শক্তির বিচারে তারাই এখন পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম দল।
ডিজিটাল দুনিয়ায় এই নয়া রাজনৈতিক মঞ্চের তৎপরতা এখন তুঙ্গে। ফেসবুক পেজে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভার দলনেতা হিসেবে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি পোস্ট করা হয়, যা পরে অবশ্য মুছে ফেলা হয়েছে। অন্য একটি গ্রাফিকের মাধ্যমে দলটি দাবি করেছে, লোকসভায় ২০টি আসন নিয়ে তারাই এখন রাজ্যের বৃহত্তম শক্তি, যেখানে বিজেপির আসন ১২ এবং তৃণমূলের ৮।
হাওড়ার সাঁকরাইলের অখ্যাত কার্যালয় থেকে দিল্লির সংসদ
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আরইউপিপি (রেজ়িস্টার্ড আনরেকগনাইজ়ড পলিটিক্যাল পার্টি) তালিকাভুক্ত হওয়া এই দলটির প্রধান কার্যালয় আদতে হাওড়ার সাঁকরাইল থানার হাটগাছা গ্রামে। পেশায় আইনজীবী শিউলি কুন্ডু এবং তাঁর স্বামী তথা যোগা প্রশিক্ষক ও অঙ্কের শিক্ষক উত্তীয় কুন্ডুর বাড়িটিই দলটির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে হাওড়ার একটি গ্রামসভা আসনে এবং ত্রিপুরার বিধানসভা ভোটে দু’টি আসনে প্রার্থী দিলেও কোথাও খাতা খুলতে পারেনি এই দল।
তৃণমূলের এই বড়সড় যোগদানের পর দলটির ভেতরেই তীব্র কোন্দল ও বিভ্রান্তি প্রকাশ পেয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনু দে এই যোগদানের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, তাঁকে অন্ধকারে রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান সভাপতি উত্তীয় কুন্ডু এই বিষয়ে মুখ খুলতে না চাইলেও, তাঁর স্ত্রী শিউলি কুন্ডু এই যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এই দলের প্রতিষ্ঠাতা ও কর্মীদের একাংশ প্রয়াত মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ এবং তাঁদের একটি বড় অংশ মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত।
আইনি জটিলতা এড়াতেই কি নতুন দলের ছাতা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের ভাঙনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদেরা এই কৌশলগত পদক্ষেপ করেছেন। বিধানসভায় বিদ্রোহীরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করায় বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। সেই আইনি ঝুঁকি ও জটিলতা এড়াতেই লোকসভার ২০ জন সাংসদ নিজেদের মূল দল থেকে বিচ্ছিন্ন করে এনসিপিআই-এর মতো একটি নথিভুক্ত দলের ছাতার তলায় আশ্রয় নিলেন। দলটির হঠাৎ এই উত্থানের কারণে ইতিমধ্যেই হাওড়ার দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
