সত্যিই কি দরকার ডিটক্স ড্রিঙ্ক? খাবারের তালিকায় এই বদলেই সুস্থ থাকবে লিভার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 12, 20265:33 pm
ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সরদের দৌলতে আজকাল ‘ডিটক্স ওয়াটার’ ভীষণ জনপ্রিয়। অনেকেরই ধারণা, লিভারের সমস্ত বিষাক্ত বর্জ্য বের করতে এই বিশেষ পানীয় অপরিহার্য। তবে চিকিৎসকরা এই ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন।
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডাঃ জোসেফ সালহাবের মতে, লিভারকে পরিষ্কার রাখতে বাজারচলতি বা আলাদা কোনো ডিটক্স ওয়াটারের প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সঠিক ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই যথেষ্ট।
সারাদিনের পাতে কী রাখবেন?
- প্রাতরাশ (ব্রেকফাস্ট): গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। সকালের খাবারে চিয়া সিড, আখরোট, গ্রিক ইয়োগার্ট ও ব্লুবেরি রাখতে পারেন। এগুলো প্রোটিন, ফাইবার, প্রোবায়োটিক, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর।
- মধ্যাহ্নভোজন (লাঞ্চ): দুপুরের পাতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার থাকা প্রয়োজন। এর জন্য বিভিন্ন ধরনের ডাল, টমেটোর সবজি, অলিভ অয়েল এবং মাছ বেছে নিতে পারেন।
- রাতের খাবার (ডিনার): রাতে বাঁধাকপি বা ব্রকোলির মতো ক্রুসিফেরাস (Cruciferous) সবজি খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। এই ধরনের সবজি লিভারের স্বাভাবিক ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
ডিটক্স ওয়াটারের বদলে কোন পানীয় উপকারী?
চিকিৎসকের মতে, কৃত্রিম ডিটক্স ড্রিঙ্কের বদলে দিনে এক-আধ বার খেতে পারেন:
- ব্ল্যাক কফি
- গ্রিন টি বা মাচা টি
- বেরি দিয়ে তৈরি স্মুদি
এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পলিফেনল থাকে, যা লিভারের সুরক্ষায় কার্যকরী।
মিষ্টি খাওয়ার লোভ সামলাবেন কীভাবে?
লিভার ভালো রাখতে প্রক্রিয়াজাত চিনি বা প্রসেসড সুগার পুরোপুরি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। তবে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হলে ক্ষতিকর চিনির বদলে বেছে নিতে পারেন পিনাট বাটার, ডার্ক চকোলেট, মধু কিংবা দারুচিনির গুঁড়ো দিয়ে আপেল। এই খাবারগুলো শরীরকে প্রয়োজনীয় হেলদি ফ্যাট, ফাইবার ও পলিফেনল জোগায় এবং লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে না।
