সন্ত্রাসবাদে মদত দিলে আন্তর্জাতিক সম্মান ধূলিসাৎ হবে, চিনকে হুঁশিয়ারি ভারতের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোকে আড়াল করার অভিযোগে চিনকে তীব্র ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যে সব রাষ্ট্র জেনেশুনে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেয় বা সুরক্ষা প্রদান করে, বিশ্বমঞ্চে তাদের নৈতিক অবস্থান এবং সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূলত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানকে চিনের প্রযুক্তিগত সহায়তার যে খবর প্রকাশ্যে এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই নয়াদিল্লির এই কড়া প্রতিক্রিয়া।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যারা নিজেদের দায়িত্বশীল দেশ বলে দাবি করে, তাদের ভাবা উচিত যে সন্ত্রাসবাদীদের মদত দিয়ে তারা বিশ্বজুড়ে নিজেদের কেমন ভাবমূর্তি তুলে ধরছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার সময় বেজিংয়ের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদকে প্রযুক্তিগত সাহায্য দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন যে, এই ধরনের কার্যকলাপ দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের পরিচায়ক নয়।
অপারেশন সিঁদুর ও পাকিস্তানের অপপ্রচার
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগামে ২৬ জন নিরীহ নাগরিককে হত্যার প্রতিবাদে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করেছিল। এই অভিযানটি ছিল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং নিয়ন্ত্রিত একটি সামরিক জবাব, যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা। সম্প্রতি এই সফল অভিযানের প্রথম বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে। ভারতের এই সামরিক সাফল্যে কোণঠাসা হয়ে পাকিস্তান এখন মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ও ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে বলে দাবি করেছে বিদেশ মন্ত্রক।
ডিপফেক ভিডিও ও ডিজিটাল ষড়যন্ত্র
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের একটি বিকৃত বা ‘ডিপফেক’ ভিডিও ছড়িয়েছে পাকিস্তান। যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, ভারতের চারটি রাফাল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে এবং ভারত সিন্ধু জলচুক্তি লঙ্ঘন করছে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (PIB) ফ্যাক্ট-চেক ইউনিট এই ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো ও ডিজিটাল কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রণক্ষেত্রে পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে পাকিস্তান এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে তথ্য বিকৃতির আশ্রয় নিচ্ছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, আধুনিক যুদ্ধে সীমান্ত লড়াইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও বড় ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। ভারত সরকার সাধারণ মানুষকে এ ধরনের কোনো ভিডিও বা তথ্যে বিভ্রান্ত না হতে এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের ওপর ভরসা করার আহ্বান জানিয়েছে। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থেকে তারা এক চুলও সরবে না।
