সর্বভারতীয় পরীক্ষায় ফের বড়সড় বিভ্রাট, শেষ মুহূর্তে পিছল সিইউইটি ইউজিসি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ এবং এসএসসি জিডি-র পর এবার বিতর্কের মুখে পড়ল কলেজের স্নাতক স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা সিইউইটি ইউজিসি (CUET UG)। শনিবার দেশজুড়ে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। এই ঘটনার জেরে চরম হয়রানির শিকার হতে হয় হাজার হাজার পরীক্ষার্থীকে। একের পর এক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় এমন নজিরবিহীন গাফিলতিতে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে চরম বিভ্রান্তি ও পড়ুয়াদের ক্ষোভ
শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার পর পড়ুয়ারা জানতে পারেন যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এনটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনলাইন পরীক্ষার কেন্দ্র টিসিএস (TCS)-এ কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরীক্ষা পিছিয়েছে। দুপুরের পরীক্ষাটি বিকেল ৩টের পরিবর্তে ৪টে থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরীক্ষার্থীদের বাড়তি সময় দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে শেষ মুহূর্তে এই চরম অব্যবস্থার কারণে দেশের একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরীক্ষার্থীরা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এনটিএ-র পক্ষ থেকে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে অনলাইন সিস্টেম ও সার্ভারে যান্ত্রিক ত্রুটিকে এই বিভ্রাটের মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা এবং পরীক্ষা চলাকালীন সিস্টেম ক্র্যাশ বা হ্যাক হওয়ার মতো ধারাবাহিক অভিযোগ সামনে আসছিল। সিইউইটি-র এই সাম্প্রতিক বিভ্রাট সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। এর ফলে একদিকে যেমন লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও মানসিক প্রস্তুতি ধাক্কা খাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থাগুলোর নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলে সরব হয়েছেন বিরোধীরা।
