সল্টলেকের তৃণমূল পার্টি অফিসে মিলল শয়ে শয়ে আধার কার্ড ও জমির দলিল, তুমুল উত্তেজনা এলাকায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সল্টলেকের বিধাননগর পুরনিগমের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসন্তী দেবী কলোনি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় একটি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস থেকে শতাধিক আধার কার্ড এবং সরকারি জমির অবৈধ কেনাবেচা সংক্রান্ত একাধিক নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। আজ রবিবার সকালে বন্ধ থাকা ওই পার্টি অফিসের তালা খোলার পর এই বিপুল পরিমাণ নথির হদিস মেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত কার্ড ও নথিপত্র নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।
নথি আটকে রাখার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডগুলি মূলত ওই এলাকারই সাধারণ বাসিন্দাদের বলে জানা গেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আধার কার্ড তৈরির সময় তৃণমূলের এই পার্টি অফিসের ঠিকানাতেই সাধারণ মানুষের কার্ডগুলি আসত। পরবর্তীতে বাসিন্দারা বারবার নিজেদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে গেলেও পার্টি অফিস থেকে জানানো হতো যে কার্ড এখনও এসে পৌঁছয়নি। দিনের পর দিন, এমনকি বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষকে এভাবে ঘোরানো হতো বলে অভিযোগ। এই ক্ষোভের জেরে গত ৪ মে স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে ওই পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। আজ সকালে সেই তালা খোলার পরই থলে থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়ে।
অবৈধ জমি কারবার ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা
স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র আধার কার্ডই নয়, বহু মানুষের বাড়ি ও জমির দলিল জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে সরকারি জমির অবৈধ কেনাবেচা সংক্রান্ত একাধিক জাল দলিল ও নথিপত্র মিলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আধার কার্ডের মতো অত্যন্ত জরুরি সরকারি পরিচয়পত্র আটকে রেখে এলাকায় এক ধরনের ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা হয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একই সাথে সরকারি জমি দখল ও ভুয়ো দলিলের মাধ্যমে বেআইনি কারবার চালানোর উদ্দেশ্যেও এই নথিগুলি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
