সাদামাটা ইমেজের আড়ালে বিপুল দুর্নীতি, ক্ষমতা বদলের পর প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে বাংলার মানুষ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের একাধিক অন্ধকার দিক এবং দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই শাসনের অধীনে হওয়া অনিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মাত্রা এতটাই গভীর ছিল যে, তা এখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোদ কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে এবং প্রাক্তন শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের বাড়ির সামনে সাধারণ মানুষের ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনা জনমানসের এই চরম অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ।
পর্দাফাঁস ও দুর্নীতির বহর
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে চলা একের পর এক কেলেঙ্কারির ঘটনা এখন নতুন প্রশাসনের তদন্তে গতি পাওয়ায় সামনে আসছে। সরকারি ও বেসরকারি জমি দখল, যত্রতত্র তোলাবাজি, কিউআর কোডের মাধ্যমে সরকারি টোলের টাকা সরাসরি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার, বেআইনি পার্কিং ফি আদায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো ঘটনা রাজ্যজুড়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও নেতাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন, সুইমিং পুল, দামি আসবাব ও একাধিক বেনামি সম্পত্তি থেকে এটা স্পষ্ট যে, বিগত বছরগুলোতে দুর্নীতির চাকা কতটা অবাধে চলেছে। এমনকি বিগত বামফ্রন্টের তিন দশকের আমলের অনিয়মকেও তৃণমূলের ১৫ বছরের দুর্নীতি ছাড়িয়ে গেছে বলে জনমানসে চর্চা চলছে।
প্রশাসনের মেরুদণ্ড ভাঙার চেষ্টা ও জনবিক্ষোভ
বিগত সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের তথাকথিত ‘সাদামাটা’ ভাবমূর্তির আড়ালে অপরাধী চক্র ও রাজনৈতিক নেক্সাস অবাধ সুবিধা পেয়েছে। সাধারণ মানুষ এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হতে গেলে উল্টে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের তরফে তাঁদের হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। সাধারণ প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বিকল করে দিয়ে দলীয় ক্যাডারদের দালাল হিসেবে ব্যবহার করার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ নাগরিকেরা। সন্দেশখালির মতো ঘটনায় নারী নির্যাতন ও মানব পাচারের মতো চরম অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তৎকালীন পুলিশের একাংশ সহযোগিতা করেছিল বলে অভিযোগ, যার তদন্ত এখন নতুন করে শুরু হচ্ছে।
নতুন মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকশন প্ল্যান ও প্রশাসনিক রদবদল
রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সহ তিন জন সিনিয়র আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত এই অফিসারদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের নিজেদের কাজের ধরণ বদলানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথেই রাজ্যের মূল ধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর অবস্থানও ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে, এবং বর্তমানে রাজ্যজুড়ে অপরাধ দমনে বুলডোজার অ্যাকশন ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এক ঝলকে
- ৪ মে, ২০২৬-এ বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের পর পূর্বতন সরকারের একের পর এক বড় মাপের দুর্নীতি ও বেনামি সম্পত্তির হদিস মিলছে।
- সরকারি জমি দখল, কিউআর কোডের মাধ্যমে সরকারি টোলের টাকা আত্মসাৎ এবং ব্যাপক তোলাবাজির প্রমাণ উঠে আসছে।
- আরজি কর কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সহ তিন সিনিয়র আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী।
- দুর্নীতি ও মাফিয়াতন্ত্র রুখতে রাজ্যজুড়ে নতুন প্রশাসনের তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও বেআইনি সম্পত্তিতে বুলডোজার অভিযান চলছে।
