সাপের রাজত্ব থেকে বিষাক্ত মরুভূমি, রোমাঞ্চের খোঁজে মৃত্যুর দোরগোড়ায় পর্যটকরা!

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চাঁদের পাহাড়’ থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক যুগ, বাঙালির রক্তে রোমাঞ্চের নেশা চিরকালই প্রবল। প্রকৃতির শান্ত স্নিগ্ধ রূপের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এমন কিছু অঞ্চল, যেখানে পা রাখা মানেই সাক্ষাৎ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা। বিষধর সাপের দ্বীপ থেকে শুরু করে তেজস্ক্রিয়তার অভিশাপ কিংবা তুষারশীতল মরুভূমি— বিশ্বের এই ভয়ংকর সুন্দর স্থানগুলো পর্যটকদের যেমন টানে, তেমনই প্রতিটি পদক্ষেপে দিয়ে যায় প্রাণহানির সংকেত।
তেজস্ক্রিয়তা ও আগ্নেয়গিরির অভিশাপ
বিপজ্জনক পর্যটন কেন্দ্রের তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে ইউক্রেনের চেরনোবিল। ১৯৮৬ সালের সেই ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়ের রেশ এখনও কাটেনি; বাতাসের তেজস্ক্রিয়তা আজও পর্যটকদের জন্য চরম ঝুঁকির। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট সিনাবুং আগ্নেয়গিরি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও এটি যে কোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী অগ্নুৎপাত ঘটাতে পারে। ২০১০ সালের পর থেকে একাধিকবার এই আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভা ও ছাই কেড়ে নিয়েছে জনপদ। একইভাবে ইথিওপিয়ার ডানাকিল মরুভূমিকে বলা হয় ‘নরকের দ্বার’। বিষাক্ত গ্যাস আর ফুটন্ত লাভার হ্রদ এই অঞ্চলকে পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম ও বিষাক্ত স্থানে পরিণত করেছে।
প্রকৃতির বিষাক্ত ফাঁদ ও প্রাণঘাতী আবহাওয়া
ব্রাজিলের ‘স্নেক আইল্যান্ড’ বা সাপের দ্বীপটি আক্ষরিক অর্থেই মানুষের জন্য নিষিদ্ধ। প্রতি বর্গমিটারে কিলবিল করছে পৃথিবীর অন্যতম বিষধর ‘গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপার’। এর একটি কামড় মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। আবার তানজানিয়ার লেক ন্যাট্রন এক অদ্ভুত মরণফাঁদ। এই হ্রদের ক্ষারীয় জল এতটাই তীব্র যে সংস্পর্শে আসা যে কোনো পশুপাখিকে পাথরের মমি বানিয়ে ফেলে। শুধু জল নয়, আকাশছোঁয়া উচ্চতাও বিপজ্জনক হতে পারে; যার প্রমাণ মাউন্ট এভারেস্টের ‘ডেড জোন’। অক্সিজেনের অভাব আর হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার কারণে সেখানে মৃতদেহের স্তূপ জমে থাকে, যা উদ্ধারেরও কোনো উপায় নেই।
জনবিচ্ছিন্ন নিষিদ্ধ দ্বীপ ও বন্য আতঙ্ক
প্রযুক্তি আর আধুনিকতার বাইরেও এই পৃথিবীতে এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে প্রবেশ মানেই আক্রান্ত হওয়া। ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপ এমনই এক জায়গা, যেখানে সভ্য জগত থেকে বিচ্ছিন্ন উপজাতিরা বহিরাগত দেখলেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, বলিভিয়ার মাদিদি ন্যাশনাল পার্ক তার অফুরন্ত জীববৈচিত্র্য নিয়ে সুন্দর মনে হলেও, এখানকার হিংস্র প্রাণী ও বিষাক্ত পোকামাকড় পর্যটকদের জন্য নিয়মিত আতঙ্ক। প্রকৃতির এই বিরূপ অথচ অদ্ভুত আকর্ষণীয় রূপই পর্যটকদের বারবার রোমাঞ্চের পথে নিয়ে যায়, যেখানে সৌন্দর্যের সাথেই মিশে থাকে চিরস্থায়ী নৈশব্দ।
