সিটংয়ে বারবিকিউ দুর্ঘটনা: ‘বারণ করা সত্ত্বেও গা ঘেঁষে বসেন’, দায় এড়াতে পাল্টা যুক্তি হোমস্টে মালিকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 18, 20265:32 pm
সিটং (দার্জিলিং): বিয়ের মাত্র দু’মাসের মাথায় পাহাড়ে মধুচন্দ্রিমা করতে গিয়ে ঘনিয়ে এল চরম বিভীষিকা। সিটংয়ের একটি হোমস্টে-তে নৈশভোজের বারবিকিউ করতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ হয়ে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা নিকিতা সাহা। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন স্বামী সৌভিক দাসও। বর্তমানে শিলিগুড়ির এক বেসরকারি হাসপাতালে সঙ্কটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন তরুণী।
ঘটনা ও পরিবারের অভিযোগ সিসিটিভি ফুটেজ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বারান্দায় বারবিকিউ চলাকালীন আগুনের তাপ বাড়াতে হোমস্টের কর্মী দাহ্য পদার্থ (কেরোসিন বা থিনার) ঢালতেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে থিনারের জারে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে নিকিতার শরীরে। পরিবারের দাবি, নিকিতার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। শুধু অসাবধানতাই নয়, দুর্ঘটনার পর হোমস্টেতে চালক না থাকায় নিকিতাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে এক ঘণ্টারও বেশি দেরি করা হয় বলে পরিবার কার্শিয়াং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
হোমস্টে মালিকের পাল্টা দাবি ঘটনার দায় অস্বীকার করে হোমস্টের মালিক নেহাল আইরন জানান, নিকিতাকে আগুনের খুব কাছে বসতে বারবার বারণ করা হয়েছিল। ওঁর পরনে নাইলনের পোশাক ছিল এবং চুল খোলা থাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে হোমস্টে ম্যানেজার ভেজা তোয়ালে দিয়ে দ্রুত আগুন নেভান। হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মালিকের দাবি, ১০ মিনিটের মধ্যেই পাশের গ্রাম থেকে চালক এনে শিলিগুড়ির হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
পাহাড়ের হোমস্টেগুলিতে পর্যটকদের সুরক্ষা ও ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা নিয়ে এই ঘটনার পর আবারও বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গেল।
